১০০ দিনে ৬০৫ খুন! নারী নির্যাতন! সংসদে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা নীতি ধুয়ে দিলেন রুমিন ফারহানা





ঢাকা: বাংলাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনেই আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে বলে সংসদে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি খুন, অপহরণ, ডাকাতি এবং নারী নির্যাতনের এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের অনুপস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে ফারহানা বলেন, "আজ তাঁর উপস্থিত থাকার কথা ছিল, কিন্তু তাঁর চেয়ারটি খালি। কী আর করা, তাঁর অনুপস্থিতিতেই আমাকে বলতে হচ্ছে।"


প্রথম তিন মাসেই আশঙ্কাজনক পরিসংখ্যান:

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সংগৃহীত পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে রুমিন ফারহানা জানান, কেবল মার্চ ও এপ্রিল মাসেই দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে ২,২১৪টি চুরির মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং ১২৯টি পৃথক ঘটনায় খোদ পুলিশ কর্মীরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন।


নারী ও শিশু নির্যাতনের খতিয়ান তুলে ধরে এই আইনপ্রণেতা বলেন, গত দুই মাসে ৩,৪৯৬টি নির্যাতনের মামলা দায়ের হয়েছে। যার মধ্যে ৭৮ থেকে ১০২টি ধর্ষণের ঘটনা, ৩০ থেকে ৩৬টি গণধর্ষণ এবং ৪৯ থেকে ৭১টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে। ফারহানা বলেন, "মাত্র তিন মাসেই এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর ও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে তাঁর ব্যর্থতাগুলো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া সহজ হতো।"


গণপিটুনি ও মব ভায়োলেন্সের বাড়বাড়ন্ত:

সরকারের এই হানাহানির আবহে ঢাকার মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন’ (এমএসএফ)-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টও এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, কেবল মে মাসেই দেশে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির শিকার হয়ে অন্তত৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫৩টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


এমএসএফ-এর রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। মে মাসে গণপিটুনিতে মৃত্যুর সংখ্যা এপ্রিলের (২১ জন) তুলনায় অনেকটাই বেশি। গত মে মাসে নিহতদের মধ্যে ১৪ জনের বিরুদ্ধে চুরির এবং ২ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ ছিল।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সংসদে রুমিন ফারহানার এই ধারালো আক্রমণ এবং অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলির এই বিস্ফোরক রিপোর্ট— দুইয়ে মিলে বাংলাদেশে জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে সরকারের অন্দরে চাপ ও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়ল।