|
|
| WWDC 2026-এর মঞ্চে এআই সংস্থাগুলির অন্ধ দৌড় নিয়ে সরব হলেন অ্যাপেলের সফটওয়্যার প্রধান ক্রেগ ফেডেরিঘি. |
ক্যালিফোর্নিয়া: প্রযুক্তি দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে যখন উন্মادনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রতিদ্বন্দী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি করল টেক জায়ান্ট অ্যাপেল (Apple)। ইউজারদের প্রয়োজন এবং সুরক্ষাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাজারে টিকে থাকার জন্য যেভাবে একের পর এক এআই টুল নিয়ে আসা হচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনা করলেন অ্যাপেলের সফটওয়্যার প্রধান ক্রেগ ফেডেরিঘি। তাঁর মতে, অনেকেই এখন স্রেফ 'এআই-এর খাতিরেই এআই' তৈরি করছে, সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবছে না।
বছরের অন্যতম বৃহত্তম প্রযুক্তি মঞ্চ 'ডব্লিউডব্লিউডিসি ২০২৬' (WWDC 2026)-এ নতুন সফটওয়্যার ও সিরি (Siri)-র একাধিক এআই আপগ্রেড তুলে ধরেছে অ্যাপেল. তবে সমস্ত প্রোডাক্ট লঞ্চের মাঝেই মূল নজর কেড়েছে এআই দুনিয়া নিয়ে অ্যাপেল প্রধানের এই কড়া বার্তা। ফেডেরিঘি সরাসরি কারও নাম না নিলেও, ওয়াকিবহাল মহলের মতে তাঁর এই تিরের নিশানা ছিল ওপেনএআই (OpenAI), অ্যানথ্রোপিক (Anthropic) এবং গুগলের (Google) মতো প্রথম সারির প্রতিদ্বন্দীদের দিকেই।
আরও পড়ুন: AI বদলে দিচ্ছে চাকরির ভবিষ্যৎ! মানুষ নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—ভবিষ্যতে কাজের দুনিয়ায় জিতবে কে?
AI-এর অন্ধ দৌড় বনাম গ্রাহক নিরাপত্তা
অ্যাপেলের এই আপত্তির কেন্দ্রে কিন্তু এআই-এর কার্যক্ষমতা নেই, বরং আসল লড়াইটা ইউজারদের ব্যক্তিগত তথ্য বা 'প্রাইভেসি' নিয়ে। আইফোন প্রস্তুতকারক সংস্থাটির দাবি, তাদের তৈরি 'অ্যাপেল ইন্টেলিজেন্স' ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মধ্যে মূল পার্থক্যই হলো সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা। ফেডেরিঘি জোর দিয়ে বলেন, গ্রাহকদের কেন বারবার ম্যানুয়ালি চ্যাট হিস্ট্রি ডিলিট করতে হবে কিংবা বিশেষ কোনো প্রাইভেসি সেটিংস অন করতে হবে? কোনো এআই চ্যাট শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে জমা হচ্ছে, তা নিয়ে ইউজারদের দুশ্চিন্তায় থাকা উচিত নয়।
চ্যাটবটের তথ্য যাচ্ছে আদালতে! বাড়ছে উদ্বেগ
এই বিতর্কটি সম্প্রতি আরও বড় আকার নিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের পর। সেখানে দেখা গেছে, বিভিন্ন সাধারণ মানুষের করা এআই চ্যাটবটের কথোপকথন আইনি তদন্ত, আদালতের মামলা বা সংস্থার অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলে এই সমস্ত এআই সংস্থাগুলি গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ডেটা আদালতে তুলে দিতে বাধ্য থাকে। আর এখানেই আপত্তি অ্যাপেলের। তারা মনে করে, সাময়িক সুবিধার জন্য গ্রাহকদের কখনোই নিজেদের গোপনীয়তা বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।
গুগল ক্লাউড ও এনভিডিয়া-র সাথে বড় চুক্তি অ্যাপেলের
নিজেদের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে এই ইভেন্টে এক বড় ঘোষণা করেছে অ্যাপেল। তারা জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব 'প্রাইভেট ক্লাউড کمپیوট' (Private Cloud Compute) পরিকাঠামো এখন থেকে অ্যাপেলের নিজস্ব ডেটা সেন্টারের বাইরেও কাজ করবে। এর জন্য তারা গুগল ক্লাউড (Google Cloud) এবং এনভিডিয়া (NVIDIA) হার্ডওয়্যার ব্যবহার করতে চলেছে। তবে পরিকাঠামো বদলালেও সুরক্ষার নিয়মে কোনো আপস করা হবে না।
অ্যাপেল স্পষ্ট করেছে যে, এই সিস্টেমটি সম্পূর্ণ 'স্টেটলেস প্রসেসিং' (Stateless Processing) পদ্ধতিতে চলবে। অর্থাৎ, ইউজারের কাজ শেষ হওয়া মাত্রই সার্ভার থেকে সমস্ত ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে, কোনো তথ্যই কোথাও জমা রাখা হবে না। এমনকি বাইরের সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরাও অ্যাপেলের এই সিকিউরিটি প্রোগ্রাম পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন। ফেডেরিঘির এই বার্তা স্পষ্ট করে দিল যে, এআই রেসে তারা পিছিয়ে নেই, তবে গ্রাহকের ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিক্রি করে তারা এগোতে নারাজ।