কলকাতা: লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে নজিরবিহীন ধস নামল। বিধানসভার পর এবার দেশের রাজধানীতেও ‘অপারেশন লোটাস’-এর বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। সোমবার তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জনই স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই ঐতিহাসিক ডামাডোলের মাঝেই সবচেয়ে বড় চমক জাগিয়েছেন যাদবপুরের তারকা সাংসদ তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সেনাপতি সায়নী ঘোষ। সূত্রের খবর, তিনিও এবার সুর বদলে ‘বিদ্রোহী ব্লকে’ নাম লেখাতে চলেছেন।
একদা বামমনস্কা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোর সমালোচক সায়নী পরবর্তীতে নেত্রীর হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন। ২০২৪-এর নির্বাচনে যাদবপুর জয়ের পর শাড়ি-হাওয়াই চটিতে নিজেকে মমতার ‘রেপ্লিকা’ হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন তিনি। অতীতে তাঁর একাধিক বিতর্কিত পোস্টের সময়ও দল তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু লোকসভায় দলের রাশ ‘আসল তৃণমূল’ বা বিদ্রোহীদের হাতে চলে যাওয়ার দিনে সায়নীর এই ‘বেসুরো’ অবস্থান রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
এদিকে সোমবার রাতে বীরভূমের বর্ষীয়ান সাংসদ শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে ফের একপ্রস্থ বৈঠকে বসেন বিক্ষুব্ধরা। সেই বৈঠকের মূল আকর্ষণ ছিলেন খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শতাব্দীর ডেরায় শুভেন্দুর এই উপস্থিতি জল্পনা উস্কে দিয়েছে— লোকসভার পর এবার কি লক্ষ্য রাজ্যসভা? যদিও বৈঠক শেষে বিদ্রোহী সাংসদেরা একে স্রেফ ‘সান্ধ্য চা-চক্র’ বলে দাবি করেছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সান্ধ্য আড্ডার নেপথ্যে যে গভীর কোনও সমীকরণ রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।