অভিষেকের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রত্যাহার? নবান্নের নির্দেশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর আলোচনা
নবান্নের বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত সামনে আসছে। এবার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নবান্নের নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা ও বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট হুমকির ইনপুট না থাকলে কোনও রাজনৈতিক নেতার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা বহর রাখা হবে না—এমন বার্তাই প্রশাসনিক বৈঠকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক
সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে রাজ্যের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত খরচ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়।
প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি তাঁর পদমর্যাদা ও কেন্দ্রীয় গাইডলাইন অনুযায়ী যতটা নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য, শুধুমাত্র সেটুকুই পাবেন। কোনও ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা, পাইলট কার বা বিশেষ সুবিধা রাখার আগে বাস্তব হুমকির মূল্যায়ন করা হবে।
বাড়ি ও অফিস থেকেও সরছে অতিরিক্ত ব্যবস্থা?
খবর অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও অফিস থেকে অতিরিক্ত স্ক্যানার, মেটাল ডিটেক্টর এবং স্থায়ী পুলিশ পোস্ট সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটের একটি বড় অংশও প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।
তবে সরকারি স্তরে এই নিয়ে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি।
‘VIP Culture’-এর বিরুদ্ধে বার্তা?
নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বলে দাবি, শুধুমাত্র ‘ভিআইপি স্টেটাস’ দেখানোর জন্য করদাতার টাকা খরচ করে বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা যাবে না। দীর্ঘদিন ধরে অভিষেকের কনভয় চলাচলের সময় বহু রাস্তা বন্ধ রাখা, একাধিক পুলিশ কর্মী ও কমান্ডো মোতায়েনের মতো ব্যবস্থায় এবার বদল আসতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা
এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, নতুন সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যে তথাকথিত ‘ভিআইপি কালচার’-এর বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, নিরাপত্তার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গা থেকে নয়, বরং নিরপেক্ষ হুমকি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। এখন দেখার, নবান্নের এই নির্দেশ কার্যকর হলে রাজ্যের নিরাপত্তা প্রোটোকলে কতটা বদল আসে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন