চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তভার এবার CBI-এর হাতে, ৭ সদস্যের বিশেষ SIT গঠন

চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড় পদক্ষেপ


কলকাতা: শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে এবার নামছে সিবিআই। বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, এই খুনের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ভিনরাজ্যের যোগ থাকার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ থেকে তিনজন শার্প শুটারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপরই তদন্ত আরও বিস্তৃত করতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে দায়িত্ব দেওয়া হল।

৭ সদস্যের বিশেষ SIT গঠন

চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে সিবিআই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করেছে। ভিনরাজ্যের মোট সাতজন অভিজ্ঞ অফিসারকে নিয়ে এই টিম তৈরি করা হয়েছে। দিল্লি, পটনা, রাঁচি, ধানবাদ ও লখনউয়ের অফিসাররা এই দলে রয়েছেন।

তদন্তের দায়িত্বে থাকবেন ডিআইজি র‍্যাঙ্কের অফিসার পঙ্কজ কুমার সিং। কলকাতা জোনের জয়েন্ট ডিরেক্টর পুরো তদন্তের উপর নজরদারি করবেন। প্রয়োজন হলে এই SIT-এ আরও অফিসার যুক্ত করা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

পুলিশ ও CID-এর নথি যাবে CBI-এর হাতে

মধ্যমগ্রাম থানা এবং CID-এর হাতে থাকা তদন্ত সংক্রান্ত সমস্ত নথি দ্রুত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এতদিন মধ্যমগ্রামের ঘটনার তদন্ত করছিল পুলিশ, পাশাপাশি CID-ও তদন্তে সহযোগিতা করছিল।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের ঘটনায় ৮ থেকে ৯ জন যুক্ত থাকতে পারে। খুনের সময় দু’টি বাইক ও একটি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। একটি বাইকে দু’জন এবং অন্য বাইকে তিনজন ছিল বলেও জানা যাচ্ছে।



খুনের পিছনে কোটি টাকার পরিকল্পনা?

তদন্তকারী সূত্রে দাবি, এই খুন কোনও সাধারণ হামলা নয়, বরং বড় পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। ব্যবহৃত দু’টি বন্দুকের মধ্যে একটি বন্দুকের বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার বেশি বলে জানা যাচ্ছে।

গাড়ি, অস্ত্র, রেইকি, শার্প শুটার ভাড়া—সব মিলিয়ে এই খুনের পিছনে এক কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে এই অর্থ কোথা থেকে এল, কারা দিল, এবং খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী কারা—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে সিবিআই।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্যের অপেক্ষা

বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে রাজ সিং এখনও মুখ খোলেনি। অন্য দুই অভিযুক্ত তুলনামূলকভাবে চাপের মুখে পড়লেও, তিনজনই নিজেদের ভূমিকা এখনও স্বীকার করেনি বলে জানা যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয় ৪ মে। তার দু’দিন পর, ৬ মে মধ্যমগ্রামের রাস্তায় গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। খুব কাছ থেকে পরপর গুলি চালানো হয়। বুকে, হাতে ও পেটে গুলি লাগে চন্দ্রনাথের।

মন্তব্যসমূহ