‘তেল বাঁচান’ বার্তার পর সাইকেলে বিধানসভায় হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলি, শপথের দিন নজর কাড়ল অভিনব আগমন
সাইকেলে বিধানসভায় হলদিয়ার বিধায়ক
সাইকেল চালিয়ে বিধানসভায় প্রদীপ বিজলি
বিধানসভায় শপথগ্রহণের দ্বিতীয় দিনে এক অভিনব ছবি নজর কাড়ল। গাড়ি বা কনভয় নয়, সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরে গলায় গেরুয়া উত্তরীয় জড়িয়ে সাইকেল চালিয়ে বিধানসভায় পৌঁছলেন হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ বিজলি। শপথ নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে তাঁর এই সাদামাটা আগমন দেখে অবাক হন বিধানসভা চত্বরের অনেকে।
অবাক বিধানসভা চত্বর
সকালে বিধানসভায় পৌঁছনোর সময় প্রদীপ বিজলিকে সাইকেল চালাতে দেখে পথচলতি মানুষও থমকে দাঁড়ান। সাধারণত বিধায়কদের গাড়ি বা নিরাপত্তা ঘেরা আগমনই দেখা যায়। সেখানে একজন নবনির্বাচিত বিধায়কের সাইকেলে চেপে শপথ নিতে আসা রাজনৈতিক মহলে আলাদা বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফার শপথে নাম ছিল হলদিয়ার বিধায়কের
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় শপথগ্রহণের দ্বিতীয় দিন। এদিন মোট ১৩৭ জন বিধায়ককে শপথবাক্য পাঠ করানোর কথা রয়েছে। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছেন। দ্বিতীয় দফার শপথগ্রহণের তালিকাতেই নাম ছিল হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ বিজলির।
‘তেল বাঁচান’ বার্তার বাস্তব প্রয়োগ?
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘তেল বাঁচান’ বার্তা দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা। নিজের কনভয়ের গাড়ি কমানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি। সেই পথেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
বাসে বিধানসভায় বিজেপি বিধায়করা
শপথগ্রহণের প্রথম দিনে বিজেপির একাধিক বিধায়ক কনভয় বা ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাসে চড়ে বিধানসভায় এসেছিলেন। এমএলএ হস্টেল থেকে বাসে করে তাঁদের আগমনও নজর কেড়েছিল। তার পরদিনই হলদিয়ার বিধায়কের সাইকেল-যাত্রা সেই বার্তাকে আরও জোরালো করল বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বার্তা কী?
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু প্রতীকী নয়, সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। জ্বালানি সাশ্রয়, সরকারি খরচ কমানো এবং মিতব্যয়িতার রাজনীতিকে সামনে আনতেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নজরে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
প্রদীপ বিজলির সাইকেল চেপে বিধানসভায় আসা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগের বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, নতুন সরকারের শুরুর দিনগুলোতে এমন প্রতীকী পদক্ষেপ জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন