![]() |
| দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা হিজবুল্লাহর (ছবি: রয়টার্স)। |
আন্তর্জাতিক সংবাদ: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এবার লেবাননের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ইজরায়েলি বাহিনীর ওপর টার্গেটেড হামলা (Targeted Strikes) এক ধাক্কায় অনেকটা তীব্র করার দাবি করল হিজবুল্লাহ (Hezbollah)। শনিবার থেকে দক্ষিণ লেবাননের একাধিক রণাঙ্গনে এই ধারাবাহিক ও জোরালো হামলা শুরু হয়েছে বলে সশস্ত্র এই সংগঠনের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
একযোগে ড্রোন ও কামানের গোলাবর্ষণ
হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, তাদের যোদ্ধারা ফ্রন্টলাইনের একাধিক ইজরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে একযোগে বড়সড় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। অত্যাধুনিক লোয়েটারিং মিউনিশন বা কামিকাজে ড্রোন এবং ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করে ইজরায়েলি সেনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। মূলত দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি কৌশলগত শহরকে কেন্দ্র করে এই লড়াই তীব্রতর হয়েছে।
কোথায় কোথায় হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ?
সংগঠনটির প্রকাশ করা যুদ্ধ বুলেটিন অনুযায়ী, ইজরায়েলি সেনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে সফল আঘাত হানা হয়েছে:
- বিয়্যাদা (Biyyada) শহরে বড়সড় আঘাত: এই শহরে ইজরায়েলি সেনা ও সামরিক যানবাহনের দুটি পৃথক সমাবেশের ওপর ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হিজবুল্লাহর দাবি, একটি বাড়ির ভেতরে অবস্থানরত ইজরায়েলি সেনাদের ওপর বিস্ফোরক ড্রোন (Explosive drone) দিয়ে একেবারে নিখুঁত আঘাত হেনেছেন তাদের যোদ্ধারা।
- অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল ঘাঁটিতে হামলা: ওই একই শহরে মোতায়েন করা ইজরায়েলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ "গিল-স্পাইক" (Gil-Spike) অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল সাইটেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারী কামানের গোলা ব্যবহার করে বিয়্যাদায় ইজরায়েলি সামরিক সম্পদের তৃতীয় একটি বড় ঘাঁটিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
- আল-ক্যান্টারায় মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণ: হামলার এই শক্তিশালী ঢেউ আছড়ে পড়েছে আল-ক্যান্টারা (al-Qantara) শহরেও। সেখানে জনেইজেল (Jneijel) পাহাড়ের চূড়ায় জড়ো হওয়া ইজরায়েলি সামরিক যান এবং সেনাদের ওপর মুহুর্মুহু কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমেই ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লেবাননের ভেতরে ইজরায়েলি সেনার প্রবেশ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘ বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও, দুই পক্ষের এই লাগাতার রকেট ও ড্রোন হামলার জেরে পরিস্থিতি সমাধানের কোনো আশু সম্ভাবনা এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে না।
.png)