NEET 2026 Paper Leak: প্রশ্নকর্তাই প্রশ্ন চোর? পুনে থেকে গ্রেফতার NTA-র প্রশ্নপত্র কমিটির অধ্যাপক, তদন্তে CBI
প্রশ্নকর্তাই প্রশ্ন চোর! NEET কাণ্ডে গ্রেফতার অধ্যাপক
২০২৪ সালের নিট কেলেঙ্কারিতে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা NTA (ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি) কোনোমতে পার পেয়ে গেলেও, ২০২৬-এ আর শেষরক্ষা হলো না। সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা এবার সম্পূর্ণ ধুলোয় মিশিয়ে দিল সিবিআই (CBI)-এর একটি বড় ব্রেকথ্রু। পুনে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অধ্যাপক পি ভি কুলকার্নিকে। এই কুলকার্নি কোনো সাধারণ দালাল নন, তিনি লাতুরের দয়ানন্দ মেডিকেল কলেজের কেমিস্ট্রির প্রফেশর এবং সবথেকে বড় টুইস্ট হলো— খোদ NTA-র তরফে তাঁকে এবার নিটের প্রশ্নপত্র তৈরি করার কমিটিতে রাখা হয়েছিল!
অপারেশন ‘সিক্রেট ডিক্টেশন ক্লাস’: কীভাবে চলত খেলা?
সিবিআই-এর গোয়েন্দারা কুলকার্নির পুনের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে যে তথ্য পেয়েছেন, তা কোনো ক্রাইম থ্রিলারের চেয়ে কম নয়। গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে, অর্থাৎ পরীক্ষার ঠিক দিন সাতেক আগে কুলকার্নি ও তাঁর সহযোগী মণীষা ওয়াঘমারে (যাকে ১৪ মে গ্রেফতার করা হয়েছে) মিলে এক কোটি টাকার সিন্ডিকেট তৈরি করেন।
কোটি টাকার এন্ট্রি ফি: মোটা টাকার ডিল ফাইনাল হওয়া বাছাই করা কিছু পরীক্ষার্থীকে নিয়ে কুলকার্নির পুনের ফ্ল্যাটে বসত ‘স্পেশাল ক্লাস’।
মুখে মুখে প্রশ্নফাঁস: ক্লাসে কোনো বই বা জেরক্স দেওয়া হতো না (যাতে প্রমাণ না থাকে)। কুলকার্নি নিজে মুখে নিট ২০২৬-এর প্রশ্ন, তার চারটে অপশন এবং সঠিক উত্তরটা ডিক্টেশন দিতেন। পরীক্ষার্থীরা তা খাতায় নোট করত।
ফরেনসিক সিলমোহর: সিবিআই ছাত্রছাত্রীদের সেই নোট খাতাগুলো বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছিল। ল্যাব রিপোর্ট বলছে— পরীক্ষার্থীদের খাতার হাতের লেখা নোট আর ৩ মে হওয়া আসল নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ১০০% হুবহু এক!
নেক্সট স্টপ দিল্লি, দেশজুড়ে হাই-অ্যালার্ট:
মেডিকেল কোচিংয়ের ক্যাপিটাল লাতুরের বাসিন্দা এই কুলকার্নি পুনেকে নিজের সেফ জোন বানিয়ে অপারেট করছিলেন। সিবিআই তাকে পুনে আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে সরাসরি দিল্লির সদর দফতরে নিয়ে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জয়পুর, নাসিক, গুরুগ্রাম ও পুনেসহ দেশের একাধিক প্রান্তে ম্যারাথন রেইড দিয়ে বস্তা বস্তা ল্যাপটপ, মোবাইল ও হার্ড ড্রাইভ উদ্ধার করেছে সিবিআই। এই মেগা স্ক্যামে এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জন সিবিআই খাঁচায় বন্দী।
এনটিএ (NTA) সদর দফতরে থাবা:
উচ্চশিক্ষা দফতরের করা অফিসিয়াল কমপ্লেনের ভিত্তিতে গত ১২ মে এই মামলার দায়িত্ব নেয় সিবিআই। গত বুধবারই দিল্লির এনটিএ অফিসে হানা দিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে তা পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছনোর পুরো ‘চেন অব কাস্টডি’র ফাইল নিজেদের কব্জায় নিয়েছে সিবিআই। রক্ষকই যখন ভক্ষক হয়ে কোটি টাকায় দেশের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়, তখন গোটা সিস্টেমের গায়ে যে কালির দাগ লাগে, তা মোছা মুশকিল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন