RG Kar Case: আরজি করের ফাইল ফের খুলল নবান্ন! ৩ আইপিএস সাসপেন্ড, নজরে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তৎপর নতুন সরকার। ক্ষমতায় এসেই আর জি কর (RG Kar) এবং সন্দেশখালি ইস্যু নিয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই এবার নবান্ন থেকে আর জি কর কাণ্ডের ফাইল খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর কড়া স্ক্যানারে এবার পুলিশের ভূমিকা। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে একসঙ্গে সাসপেন্ড করা হল রাজ্যের তিন শীর্ষ আইপিএস (IPS) আধিকারিককে।
মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় পুলিশের ভূমিকা
নবান্ন থেকে এদিন কড়া বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আর জি করের ঘটনার ভয়াবহতায় শুধু রাজ্য নয়, গোটা বিশ্ব কেঁপে গিয়েছিল। এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে, ঘটনার পর দুই পুলিশ অফিসারের মৃতার পরিবারকে টাকা দিতে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এই সমস্ত পুলিশি গাফিলতির বিষয়টি এবার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার।
সাসপেন্ড হলেন কোন কোন আইপিএস আধিকারিক?
আর জি কর কাণ্ডে তদন্তে গাফিলতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে যে তিন শীর্ষ পুলিশ কর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা হলেন:
বিনীত গোয়েল (Vineet Goyal)
ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (Indira Mukherjee)
অভিষেক গুপ্ত (Abhishek Gupta)
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুধু সাসপেনশন নয়, এঁদের বিরুদ্ধে এবার কড়া বিভাগীয় তদন্ত (Departmental Enquiry) শুরু করবে রাজ্য সরকার।
আতসকাঁচের নীচে কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আধিকারিকদের সমস্ত পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার দিন এবং তার পরবর্তী সময়ে পুলিশ কীভাবে কাজ করেছে, তার লিখিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী:
আধিকারিকদের ফোন কল রেকর্ডস।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট (WhatsApp Chats)।
অন্যান্য সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ও আগামী পদক্ষেপ
নবান্ন সূত্রে খবর, আর জি কর ইস্যু নিয়ে আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, রাজ্য সরকার সিবিআই (CBI) তদন্তে কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করছে না, কারণ বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে পুলিশের প্রশাসনিক স্তরে যে গাফিলতি হয়েছে, তা বরদাস্ত করা হবে না।
ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে গত কয়েকদিন ধরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং (Fact Finding) বা তথ্যানুসন্ধানের কাজ চলছে। পুলিশের ঠিক কী করা উচিত ছিল এবং তারা কী করেছে—সেই ফারাকটি চিহ্নিত করেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন