নবান্নে পালাবদল হতেই শিক্ষা দফতরে পদত্যাগের ধুম! ইস্তফা দিলেন এসএসসি চেয়ারম্যান ও পর্ষদ সভাপতি


 রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হতেই নবান্নের অন্দরে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর চব্বিশ ঘণ্টাও কাটল না, তার আগেই শিক্ষা প্রশাসনের দুই শীর্ষ পদাধিকারী নিজেদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেন। সোমবার পদত্যাগপত্র জমা দিলেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়।


কেন এই গণ-ইস্তফা?

নবান্ন সূত্রে খবর, সোমবার সকালেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, সরকারের কোনো দফতরেই আর ‘এক্সটেনশন’ বা পুনর্নিয়োগের সংস্কৃতি চলবে না। বিশেষ করে শিক্ষা দফতরের ভাবমূর্তি ফেরাতে বড়সড় রদবদল যে আসন্ন, তার ইঙ্গিত মিলেছিল মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই। এরপরই একে একে ইস্তফা দিতে শুরু করেন আধিকারিকরা।


সিদ্ধার্থ ও রামানুজের বিদায়:

২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতির চরম ডামাডোলের মধ্যে এসএসসির ব্যাটন হাতে নিয়েছিলেন সিদ্ধার্থ মজুমদার। তাঁর চার বছরের মেয়াদে আদালতের নির্দেশে একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত জানুয়ারিতে তাঁর কার্যকাল শেষ হলেও তৎকালীন সরকার ছ’মাসের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিল। অন্যদিকে, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় অপসারিত হওয়ার পর পর্ষদ সভাপতির চেয়ারে বসা রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ও আজ মুখ্যসচিবের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। গত সপ্তাহেই তাঁর তত্ত্বাবধানে মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হয়েছিল।


অপারেশন ‘ক্লিন’ শিক্ষা দফতর:

নতুন সরকারের নজর কেবল শীর্ষ পদেই সীমাবদ্ধ নেই। এসএসসির আঞ্চলিক কার্যালয়ের চেয়ারপার্সনদের পাশাপাশি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের বয়স্ক আধিকারিকদেরও সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের স্কুল ও কলেজগুলির গভর্নিং বডি বা পরিচালন সমিতির মেয়াদ খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।


রাজনৈতিক মহলের মতে, গত এক দশকে নিয়োগ দুর্নীতির যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা মুছতেই শিক্ষা দফতরকে আমূল বদলে ফেলতে চাইছে বর্তমান সরকার। পুরনো কাঠামো ভেঙে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলাই এখন শুভেন্দু সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্যসমূহ