নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়লেন শুভেন্দু অধিকারী, ভবানীপুর ধরে রেখে ‘বড় দায়িত্ব’-র বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ২৯৪টি আসনে উন্নয়নের বার্তা দিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষের পাশেই থাকার আশ্বাস তাঁর।
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বড় সিদ্ধান্ত নিলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম মেনে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। স্পিকারের হাতে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এখন তাঁর সামনে লক্ষ্য অনেক বড় এবং তিনি রাজ্যের ২৯৪টি আসন জুড়েই কাজ করতে চান।
ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ
গত বুধবার সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি নিজের শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রামের পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও লড়াই করেছিলেন এবং দুই আসনেই বিপুল জয়ী হন। নন্দীগ্রামে তিনি পবিত্র করকে পরাজিত করার পাশাপাশি ভবানীপুরেও নিজের জয়ের ধারা বজায় রাখেন।
নন্দীগ্রামের জন্য উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
বিধায়ক পদ ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষকে তিনি ‘অভিভাবকহীন’ করবেন না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রধান বক্তব্যগুলি হলো:
উন্নয়ন থমকে থাকবে না: নন্দীগ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ আগের মতোই সচল থাকবে।
পরিষেবা শুরু: সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ইতিমধ্যেই এলাকায় পানীয় জলের পাইপ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
পুরনো প্রকল্পের কাজ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের পর নন্দীগ্রামে যে কাজগুলো থমকে গিয়েছিল, সেগুলো দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
“নন্দীগ্রামের মানুষদের বুঝতে দেব না যে তাঁদের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী নন।” — শুভেন্দু অধিকারী।
কেন এই পদত্যাগ?
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, একজন জনপ্রতিনিধি যদি দুটি আসনে জয়ী হন, তবে তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়। শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনটিকে নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রামের আসনটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমগ্র রাজ্যের দায়িত্ব পালনে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে পারেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন