তিলজলায় বেআইনি ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ২ জনের মৃত্যু; NOC-ফায়ার লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার


বেআইনি ভবনে আগুন, প্রাণ গেল ২ জনের

কলকাতা: তিলজলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হল ২ জনের। আরও কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তাঁর দাবি, যে ভবনে আগুন লেগেছে সেটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং সেখানে প্রয়োজনীয় NOC, ফায়ার লাইসেন্স বা ট্রেড লাইসেন্স ছিল না। ANI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, অগ্নিমিত্রা পল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভবনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

“NOC নেই, ফায়ার লাইসেন্স নেই”

অগ্নিমিত্রা পল বলেন, “এটা সম্পূর্ণ বেআইনি বিল্ডিং। NOC নেই, ফায়ার লাইসেন্স নেই, ট্রেড লাইসেন্স নেই।” তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময় এই ধরনের বেআইনি ভবন কীভাবে চলছিল, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, জলাশয় ভরাট করে গুদাম বা কারখানা তৈরি করার প্রবণতা আগেও দেখা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি ‘Wow! Momo’ কারখানা অগ্নিকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেন। আগের ওই ঘটনায় বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

কার অনুমতিতে চলছিল ভবন?

মন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি ভবনটি বেআইনি হয়, তাহলে এতদিন সেটি চালু ছিল কীভাবে? কারা অনুমতি দিয়েছিল? তাঁর দাবি, কলকাতা পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক স্তরে এর দায় এড়ানো যাবে না। তিনি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নামও উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই ধরনের অনুমতির পিছনে কার ভূমিকা ছিল তা খতিয়ে দেখা দরকার।

সব পুরসভায় নোটিস পাঠানোর নির্দেশ

অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকেই তাঁর দফতর রাজ্যের সব কর্পোরেশন ও মিউনিসিপ্যালিটিতে নোটিস পাঠাবে। যেখানে NOC, ফায়ার লাইসেন্স বা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া ভবন চলছে, সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ঘটনায় FIR দায়ের এবং বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক ছিলেন বলে দাবি করেছেন অগ্নিমিত্রা পল। তাঁর বক্তব্য, আগুনের ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, জরুরি বেরোনোর রাস্তা ছিল কি না, এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছিল কি না।

বেআইনি ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান?

তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসন যে কড়া অবস্থান নিতে চলেছে, তা মন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ, লাইসেন্সহীন গুদাম এবং শ্রমিক সুরক্ষার বড় প্রশ্নকে সামনে এনে দিল।

মন্তব্যসমূহ