তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর ‘বুলডোজার অ্যাকশন’, অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে নামল KMC-KMDA; জ়িরো টলারেন্স বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Author
By স্টারফ্লিক্স বাংলা ডেস্ক
Published:
Follow Us f

তিলজলায় বুলডোজার অ্যাকশন শুরু



তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর অবৈধ নির্মাণে কড়া পদক্ষেপ

কলকাতার তিলজলা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২ জনের মৃত্যুর পর অবৈধ নির্মাণ ও বেআইনি কারখানার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু করল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুরসভা বা KMC এবং কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা KMDA-র যৌথ উদ্যোগে তিলজলায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে বুলডোজার ও শ্রমিক নামিয়ে ভাঙার প্রক্রিয়া চালানো হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাটি অনুমোদনহীন ভবনে চলছিল এবং সেখানে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

KMC-KMDA-র যৌথ অভিযানে নামল বুলডোজার

তিলজলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের বেআইনি কারখানা ও অবৈধ নির্মাণ নিয়ে নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট ভবন ভাঙার জন্য ভারী মেশিন, বুলডোজার এবং শ্রমিক আনা হয়। এলাকা ব্যারিকেড করে ঘিরে রাখা হয়, যাতে ভাঙার কাজ চলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। ঘটনাস্থলে কলকাতা পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয় বলে স্থানীয় রিপোর্টে দাবি।

‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অবৈধ নির্মাণ, অনুমোদনহীন কারখানা, অগ্নিসুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন এবং বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিয়ম না মানার ক্ষেত্রে সরকার জ়িরো টলারেন্স নীতি নেবে। তাঁর বক্তব্য, যেসব ভবনের বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান নেই, সেখানে বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, ইকবালপুর-সহ একাধিক এলাকায় অনুমোদনহীন নির্মাণ ও কারখানা চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তপসিয়ার চামড়ার কারখানায় আগুনে মৃত্যু ২

মঙ্গলবার তপসিয়া-তিলজলা সংলগ্ন জিজে খান রোডের একটি চারতলা ভবনের দোতলায় থাকা চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। এই ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয় এবং কয়েকজন আহত হন বলে রিপোর্টে জানা গিয়েছে। পরে প্রশাসনিক তদন্তে দাবি করা হয়, যে ভবনে কারখানাটি চলছিল, সেটি অনুমোদনহীন ছিল। ভবনের কোনও বৈধ প্ল্যান ছিল না এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থারও ঘাটতি ছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারখানার মালিকসহ গ্রেফতার, তদন্তে আরও নজর

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই অবৈধ কারখানার মালিক-সহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে রিপোর্টে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, শুধু একটি ভবন নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি কারখানা ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে। নির্মাণ আইন, অগ্নিনির্বাপণ বিধি এবং বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শহরের অবৈধ কারখানাগুলির ভবিষ্যৎ কী?

তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনিক তৎপরতা দেখাচ্ছে, কলকাতায় বেআইনি কারখানা ও অনুমোদনহীন নির্মাণের বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু হতে পারে। তবে এই ধরনের অভিযানে সাধারণ শ্রমিক, ভাড়াটে ও ছোট ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে আইন মেনে পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে মানবিক দিকটিও বিবেচনা করা।

এই খবরটি শেয়ার করুন
Facebook WhatsApp X

মন্তব্যসমূহ