Chief Whip পদে ফের কল্যাণ, সরলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার—তৃণমূলের অন্দরে নতুন রদবদল ঘিরে চর্চা

Author
By Bapan Biswas
Published:
Follow Us

‘চার দশকের আনুগত্যের পুরস্কার পেলাম!’ মুখ্যসচেতক পদ হারিয়ে মমতাকে বেনজির আক্রমণ কাকলির


TMC Chief Whip Kalyan Banerjee replaces Kakoli Ghosh Dastidar Lok Sabha reshuffle Mamata Banerjee Kalighat meeting


নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল এবার আরও চওড়া হলো। কুণাল ঘোষের পর এবার প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন বারাসতের দীর্ঘদিনের সাংসদ ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক (Chief Whip) পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে ফের শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলনেত্রীর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করলেন কাকলি।


সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন কাকলি

শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের স্মৃতি উসকে দিয়ে সাংসদ লেখেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম”। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘পুরস্কার’ শব্দটি এখানে অত্যন্ত শ্লেষাত্মকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে মমতা যখন ছাত্র পরিষদের নেত্রী ছিলেন, তখন থেকেই তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন কাকলি। দীর্ঘ চার দশকের লড়াইয়ের পর পদ হারানোয় তিনি যে ব্যথিত, তা তাঁর পোস্টেই স্পষ্ট।


এক নজরে তৃণমূলের সংসদীয় দলের বর্তমান রদবদল:

  • মুখ্যসচেতক (Chief Whip): কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (পুনরায় দায়িত্বপ্রাপ্ত)।

  • উপদলনেতা (Deputy Leader): শতাব্দী রায়।

  • অপসারিত: কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

গত বছর মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে বিবাদের জেরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করলে এই দায়িত্ব কাকলিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের পুরনো সমীকরণে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।


পারফরম্যান্স না কি ব্যক্তিগত পছন্দ?

নির্বাচনী ফলাফলের নিরিখে এই রদবদল নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারফরম্যান্সের বিচারে দুজনেই নিজ নিজ এলাকায় আশানুরূপ ফল করতে পারেননি।

  • কাকলি ঘোষ দস্তিদার: বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভার মধ্যে ৫টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি।

  • কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভাগুলিতেও ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির।

ফলে পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের অন্দরের নতুন কোনো ক্ষমতার বিন্যাসই এই অপসারণের আসল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।


অস্থির ঘাসফুল শিবিরের অন্দর

রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রবল ‘ব্লেম গেম’। কুণাল ঘোষ আগেই অন্তর্ঘাত নিয়ে সরব হয়েছেন এবং ‘আত্মবিশ্লেষণ’-এর দাবি তুলেছেন। কালীঘাটের বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদদের একজোট থাকার কড়া নির্দেশ দিলেও, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই পোস্ট প্রমাণ করে দিল যে দলের অন্দরের গৃহযুদ্ধ এখনই থামছে না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে নজর রাখুন।


এই খবরটি শেয়ার করুন
Facebook WhatsApp X

মন্তব্যসমূহ