WB Assembly: বিধানসভায় মাছে-ভাতে বাঙালিয়ানা, শপথের মধ্যাহ্নভোজে বিজেপি বিধায়কদের মৎস্যসুখ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বুধবার বিধায়ক পদে শপথগ্রহণ পর্বের মধ্যেই নজর কাড়ল মধ্যাহ্নভোজের মেনু। দুপুরে বিধায়কদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল একেবারে বাঙালিয়ানার ছোঁয়ায় ভরা খাবার। মেনুতে ছিল ভাত, মাছ, ডাল, আলুভাজা ও সবজি। শপথের ব্যস্ততার মধ্যেই এই মাছে-ভাতে আপ্যায়নে উচ্ছ্বসিত হন বিজেপি বিধায়করা।
শপথের ফাঁকে জমিয়ে মাছ-ভাত
বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিধানসভায় শুরু হয় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ। প্রথম দিনের এই কর্মসূচিতে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি এবং মুর্শিদাবাদের জয়ী প্রার্থীরা প্রথমার্ধে শপথ নেন। শপথের মাঝেই দুপুরের খাবারে ছিল বাংলার চিরপরিচিত মাছ-ভাত। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মেনুর মাধ্যমে বিজেপি বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের সংযোগ আরও স্পষ্ট করতে চাইছে।
‘বাঙালিবিরোধী’ অভিযোগের জবাব?
নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল বারবার অভিযোগ তুলেছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়ার সংস্কৃতির উপর প্রভাব পড়তে পারে। সেই অভিযোগকে কার্যত ভিত্তিহীন প্রমাণ করতেই বিধানসভায় মাছ-ভাতের এই আয়োজনকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপি শিবিরের বার্তা, তারা বাংলার খাদ্যাভ্যাস বা সংস্কৃতির বিরোধী নয়।
বিজেপি দফতরেও হয়েছিল মাছ-ভাতের আয়োজন
এর আগেও ভোটের ফল ঘোষণার দিন সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। ৪ মে ফল প্রকাশের পর দলীয় কর্মী ও নেতাদের জন্য সেই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এবার সেই মাছে-ভাতে বাঙালিয়ানা পৌঁছে গেল বিধানসভাতেও।
শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী
এদিন সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে ভবানীপুরের জয়ী প্রার্থী হিসেবেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর শপথের পর একে একে অন্যান্য বিজেপি বিধায়করাও শপথ নেন।
দুই দফায় শপথগ্রহণ
বিধানসভা সূত্রে খবর, প্রথমার্ধে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি এবং মুর্শিদাবাদের জয়ী প্রার্থীরা শপথ নেন। দ্বিতীয়ার্ধে নদিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়ী প্রার্থীদের শপথ নেওয়ার কথা। বাকি জেলার বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব পরবর্তী দিনে সম্পন্ন হবে।
রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট
সব মিলিয়ে শপথগ্রহণের প্রথম দিনেই বিধানসভায় মাছ-ভাতের আয়োজন শুধু মধ্যাহ্নভোজ নয়, রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও উঠে এসেছে। বিজেপির দাবি, তারা বাংলার সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস ও বাঙালিয়ানার বিরোধী নয়—বরং সেই পরিচয়কেই সম্মান জানাতে চায়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন