বিধানসভায় প্রথম দিনেই সংঘাত, শুভেন্দু-শোভনদেব বাগ্যুদ্ধের মাঝে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ নওশাদের
কলকাতা: অষ্টাদশ বিধানসভার যাত্রা শুরু হলো এক মিশ্র আবহে। একদিকে যেমন স্পিকার নির্বাচনে সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ল, তেমনই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে শাসক-বিরোধী শিবিরের তীব্র সংঘাত দেখল বিধানকক্ষ। শুক্রবার কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হলেও, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রইল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাগ্যুদ্ধ।
হিংসা ও ঘরছাড়া নিয়ে সংঘাত:
অধিবেশনে ভাষণ দিতে উঠে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজ্যজুড়ে ভোট-পরবর্তী হিংসায় মানুষ আতঙ্কিত এবং বহু লোক ঘরছাড়া। তিনি বিজেপি সরকারকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ বলে কটাক্ষ করেন। পাল্টা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, তাঁর কাছে ঘরছাড়া হওয়ার কোনো তথ্য নেই। তবে ঘরছাড়াদের ফেরাতে একটি কড়া শর্ত দেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “২০২১ সালের সন্ত্রাসের সাড়ে ১২ হাজার এফআইআর-এ যাদের নাম নেই, পুলিশ গিয়ে তাদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবে। কিন্তু নাম থাকলে সোজা জেলে যেতে হবে।”
সাবেকদের তোপ নওশাদের:
ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এদিন পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, গত তিন বছরে বিরোধী বিধায়ক হিসেবে তিনি কোনো মর্যাদা পাননি। নওশাদের কথায়, “২০২১ সালে জিতে মনে হয়েছিল ইস্তফা দিয়ে দিই, যাতে অন্তত কর্মীরা বাঁচতে পারে।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, বারবার চিঠি দিলেও নবান্ন থেকে জবাব মিলত না।
শুভেন্দুর নন্দীগ্রাম ত্যাগ:
অধিবেশনের ফাঁকেই বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্রেই জয়ী হওয়ার পর নিয়মানুযায়ী তিনি এদিন নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। নতুন স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাবেন। একইভাবে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরও। ফলে এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন এখন সময়ের অপেক্ষা।
সৌজন্য ও হুঁশিয়ারি:
এদিন স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে আসনে বসানোর সময় শুভেন্দু ও শোভনদেবকে একসঙ্গে দেখা গেলেও, পরে শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দেন যে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ যেন না করা হয়। তিনি বলেন, “বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, আশা করি আগের মতো বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস কক্ষের বাইরে রাখা হবে না।” ১৮ জুন রাজ্যপালের ভাষণের পর রাজ্য বাজেট পেশের মধ্য দিয়ে বিধানসভার পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরু হবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন