গঙ্গা পেরিয়ে সচিবালয় কি আবার ফিরছে রাইটার্সে? মহাকরণ সাজাতে তৎপর পূর্ত দফতর
সচিবালয় কি ফিরছে রাইটার্সে? মহাকরণ ঘিরে জোর জল্পনা
রাইটার্সে ফের সচিবালয়ের জল্পনা
পূর্ত দফতরের প্রস্তুতি তুঙ্গে
সূত্রের খবর, যদি নতুন সরকার সচিবালয়কে আবার কলকাতার মূল প্রশাসনিক কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলা হতে পারে প্রশাসনিক ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র। পূর্ত দফতর ইতিমধ্যেই সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে বলেই জানা যাচ্ছে।
দ্বিতীয় তলার কাজ প্রায় শেষ
পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, রাইটার্সের দ্বিতীয় তলার সংস্কার ও মেঝে তৈরির কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। এখন বাকি রয়েছে কিছু বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজ। আধিকারিকদের মতে, এই কাজ শেষ করতে আর খুব বেশি সময় লাগবে না। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে।
কেন দ্বিতীয় তলাই পছন্দ?
একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দফতর ছিল রাইটার্সের প্রথম তলায়। তবে সেই অংশের সংস্কারের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তুলনায় দ্বিতীয় তলাটি অনেক বেশি প্রশস্ত, খোলামেলা এবং কার্যত ব্যবহার উপযোগী। পাশাপাশি সেখান থেকে বি.বি.ডি. বাগ এলাকার দৃশ্যও স্পষ্ট দেখা যায়। সেই কারণেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের জন্য দ্বিতীয় তলাকে বেশি উপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর কি প্রত্যাবর্তন?
ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং ২০১৩ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রধান প্রশাসনিক সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হত। পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচিবালয়কে সরিয়ে নিয়ে যান নবান্নে। তারপর থেকেই প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে নবান্নের ব্যবহার শুরু হয়। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে আবারও রাইটার্সে প্রশাসনিক কার্যকলাপ ফিরতে পারে—এই জল্পনাই এখন তুঙ্গে।
১০২ কোটি টাকার সংস্কার
১৭৮০ সালে নির্মিত এই ঐতিহাসিক ভবনটি বর্তমানে ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। রাইটার্সের ঐতিহ্য, স্থাপত্য এবং রাজনৈতিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই এই বিপুল সংস্কার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র প্রশাসনিক দিক থেকেই নয়, ঐতিহাসিক মর্যাদার কারণেও রাইটার্সের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল
বিনয়-বাদল-দীনেশের স্মৃতিধন্য মহাকরণে আবারও প্রশাসনিক গতিবিধি শুরু হতে পারে—এই সম্ভাবনা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, যদি সচিবালয় সত্যিই রাইটার্সে ফেরে, তবে তা হবে এক বড় প্রশাসনিক ও প্রতীকী পরিবর্তন।
এখন নজর সরকারের সিদ্ধান্তে
সবশেষে এখন নজর একটাই—নতুন সরকার সচিবালয়ের অবস্থান নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়। নবান্নে প্রশাসনিক কাঠামো বজায় থাকবে, নাকি দীর্ঘ বিরতির পর ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং আবারও রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে—সেই উত্তরই খুঁজছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন