কলকাতা: রাজ্য বাজেটে এবার শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় চমক। কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal) সরবরাহের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকনের (ISKCON) হাতে। রাজ্য সরকারের এই নজিরবিহীন ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষামহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ইসকন এই পরিষেবা চালু করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দেবে। যেহেতু ইসকনের রান্নাঘরে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার তৈরি হয়, তাই নতুন এই ব্যবস্থায় স্কুলের খাদ্যতালিকা থেকে ডিম ও মাংস চিরতরে বাদ পড়তে চলেছে।
মেনুতে বড়সড় রদবদল: থাকছে পনির ও সোয়াবিন
ডিম বাদ পড়লে শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি হবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এই বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন ইসকনের কলকাতা শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুখপাত্র রাধারমণ দাস। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, খাবার সম্পূর্ণ নিরামিষ হলেও পড়ুয়াদের পুষ্টির ক্ষেত্রে কোনওভাবেই আপস করা হবে না।
তাঁর দাবি, বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ মেনেই প্রতিদিনের মেনু নির্ধারণ করা হবে। প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে ভাত, ডাল ও মরশুমি সবজির পাশাপাশি সয়াবিন, পনির এবং রাজমার মতো পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হবে। এছাড়া মাঝে মাঝেই পনির-সমৃদ্ধ সুস্বাদু খিচুড়িও পরিবেশন করা হবে, যাতে শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ভিটামিনের ভারসাম্য একদম সঠিক থাকে।
'অক্ষয় পাত্র' প্রকল্পের আওতায় স্বয়ংক্রিয় রান্নাঘর
ইসকনের 'অক্ষয় পাত্র' (Akshaya Patra) ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যেই দেশের অন্যান্য রাজ্যে (যেমন: গুজরাট, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ) অত্যন্ত সফলভাবে মিড-ডে মিল সরবরাহ করে আসছে। সেই একই মডেলে কলকাতাতেও কাজ হবে। ইসকনের দাবি, আধুনিক ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (Automated) রান্নাঘরে কড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত করা হবে। রান্নার পর সেই গরম খাবার সিল করা স্টিলের কন্টেনারে করে সরাসরি স্কুলগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সংস্থার বক্তব্য, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
রান্ধন কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে খাদ্যাভ্যাসে যেমন বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, তেমনই নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্কও। বর্তমানে কলকাতার স্কুলগুলোতে মিড-ডে মিল রান্নার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বহু কর্মী। ইসকনের সেন্ট্রালাইজড বা কেন্দ্রীয় রান্নাঘর চালু হলে এই সহায়িকাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যদিও এবারের রাজ্য বাজেটে এই মিড-ডে মিল কর্মীদের মাসিক ভাতা ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবুও নতুন ব্যবস্থায় তাঁদের কাজ এবং কর্মসংস্থান কীভাবে বজায় থাকবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে স্পষ্ট কোনও রূপরেখা বা নির্দেশিকা সামনে আসেনি। আপাতত এই নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়নের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।