এক নজরে:
- দীর্ঘ চার মাসের যুদ্ধের পর আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি।
- হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন শর্ত, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
- আন্তর্জাতিক আইনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আমেরিকার তীব্র প্রতিক্রিয়া, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
- মাইন আতঙ্কের মাঝে প্রণালীতে আটকে থাকা ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধারে ওমান, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন কাজ করছে।
বিস্তারিত খবর:
দীর্ঘ চার মাস ধরে চলা আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বিশ্ব। সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। কিন্তু যুদ্ধ থামলেও, পর্দার পেছনের কূটনীতি যে মাত্র শুরু হলো, তা এখন স্পষ্ট। আর এই দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন 'হরমুজ প্রণালী'。
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি:
এই চুক্তির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হলো হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ। যুদ্ধ চলাকালীন ইরান এই আন্তর্জাতিক জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল, যার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। তেহরান জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা পর্বে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো শুল্ক নেবে না। তবে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই জলপথ আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। আলোচনা শেষ হলেই এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর 'সার্ভিস ফি' বা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে তারা।
আন্তর্জাতিক আইন ও আমেরিকার প্রতিক্রিয়া:
ইরানের এই ঘোষণার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের এই ফি আদায়ের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং সেখানে শুল্ক বসানোর কোনো আইনি অধিকার এককভাবে কোনো দেশের নেই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও কোনো দেশ সরাসরি টোল নিতে পারে না। তবে সুয়েজ বা পানামা খালের মতো নিরাপত্তা বা নেভিগেশন সহায়তার জন্য কিছু ক্ষেত্র অনুযায়ী 'সার্ভিস ফি' নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু হরমুজ প্রণালীটির ওমান ও ইরানের যৌথ অধিকার থাকায়, ওমানের অনুমতি ছাড়া ইরানের পক্ষে এককভাবে কোনো শুল্ক ব্যবস্থা চালু করা প্রায় অসম্ভব।
নাবিকদের নিরাপত্তা ও মাইন আতঙ্ক:
যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব এখনো কাটেনি হরমুজ প্রণালীতে। যুদ্ধের আশঙ্কায় জলপথে সামুদ্রিক মাইন থাকার আতঙ্কে 'জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার' চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জাপান মাইন সরানোর কাজে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, এই প্রণালীতে আটকে থাকা প্রায় ১১ হাজার নাবিককে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য ওমান, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
Starflix-এর নিজস্ব বিশ্লেষণ:
এই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তি বয়ে আনলেও, হরমুজ প্রণালীতে শুল্ক আরোপের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের দামের সম্ভাব্য এই অস্থিরতা শুধু বড় দেশগুলোকেই নয়, সাধারণ মানুষের উপরেও মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে। তাই কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হতে যাওয়া এই কূটনৈতিক সমঝোতা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ।