নয়াদিল্লি: ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করতে এবার চূড়ান্ত অ্যাকশনে সাউথ ব্লক। অনুপ্রবেশ রুখতে মোদী সরকারের দাওয়াই একটাই, ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ (চিহ্নিতকরণ, নাম বাদ দেওয়া এবং বিতাড়ন)। আর এই নীতিকে বাস্তব রূপ দিতেই দেশজুড়ে এক হাই-প্রোফাইল মিশনে নামছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ১৫ জুন তিনি পা রাখতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গে। শাহের সদ্য ঘোষিত অত্যাধুনিক ‘স্মার্ট বর্ডার’ (Smart Border) প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই এই ‘শাহী’ সফর, যা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকা পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আজ থেকেই ‘শাহী’ সফর শুরু, নজরে চার রাজ্য
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, আজ (মঙ্গলবার) থেকেই এই মেগা মিশন শুরু করছেন অমিত শাহ। প্রথম দফায় তিনি যাচ্ছেন রাজস্থানের বিকানেরে। সেখানে ভারত-পাক সীমান্তের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘সাঁচু’ বিএসএফ পোস্ট পরিদর্শনের পাশাপাশি জওয়ানদের জন্য বিশেষ ব্যারাক উদ্বোধন ও ‘প্রহরী সম্মেলন’-এ যোগ দেবেন তিনি। এরপর বিকানেরে সীমান্ত লাগোয়া পাঁচ জেলার ডিএম, এসপি, বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের নিয়ে ম্যারাথন বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজস্থানের পর আগামী ২৯ মে গুজরাটের কচ্ছের ‘হারামি নালা’ এবং জুনের ৫ তারিখ ত্রিপুরার সীমান্ত পরিদর্শনে যাবেন তিনি।
১৫ জুন বাংলায় পা রাখছেন শাহ, শুরু মেগা অডিট
সফরের শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্বে ১৫ জুন বাংলায় পা দেবেন অমিত শাহ। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইতিমধ্যেই বিএসএফ-এর জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশের চেনা রুট এবং কাঁটাতারের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে নবান্নকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করতে চাইছে দিল্লি।
জানা গিয়েছে, বাংলার কোনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিএসএফ সীমান্ত চৌকি সরজমিনে খতিয়ে দেখবেন শাহ। এরপর সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলির জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, নবান্নের শীর্ষ আমলা এবং বিএসএফ প্রধানদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের মেগা বৈঠকে বসবেন তিনি। সীমান্তের ওপার থেকে সুপরিকল্পিতভাবে ভারতের জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলে দেওয়ার ছক রুখতে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে বিএসএফ-এর সঙ্গে একযোগে কাজ করার কড়া নির্দেশ দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কী এই ‘স্মার্ট বর্ডার’?
সম্প্রতি অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা ভারতের প্রায় ৬,০০০ কিলোমিটার সীমান্তকে সম্পূর্ণ দুর্ভেদ্য করে তোলা হবে। এই লক্ষ্যে প্রথাগত নজরদারির বদলে ড্রোন, অত্যাধুনিক রাডার, থার্মাল ক্যামেরা এবং হাই-টেক সেন্সরের সমন্বয়ে একটি ‘দুর্ভেদ্য সুরক্ষাবলয়’ তৈরি করা হচ্ছে। বাংলা সফরে এসে এই হাই-টেক নজরদারির ব্লু-প্রিন্ট নিজেই খতিয়ে দেখবেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
