কলকাতা: কলকাতার ইদ মানেই চোখের সামনে ভেসে উঠত রেড রোডের সেই চেনা ছবি। কিন্তু ছাব্বিশের বকরি ইদে সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে চেনা কোলাজ। রাজ্যে পালা বদলের পর এবার বদলে গেল ইদের নমাজ পাঠের জায়গাও। এবার আর রেড রোড নয়, বরং হাজার হাজার মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ ইদের নমাজ পাঠ করবেন ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে৷ নবান্ন ও ফোর্ট উইলিয়ামের যৌথ পর্যালোচনার পর এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
কেন এই আকস্মিক স্থানবদল? এক নজরে দেখে নিন আসল কারণ
রেড রোড চত্বরটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) এক্তিয়ারভুক্ত। ফোর্ট উইলিয়াম সূত্রের খবর, কৌশলগত নিরাপত্তা এবং সামরিক কুচকাওয়াজের মহড়ার স্বার্থে গত বছরই প্রধান আয়োজক ‘খিলাফত কমিটি’-কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে রেড রোডে আর ধর্মীয় জমায়েতের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ অনুরোধে গতবার ‘শেষ সুযোগ’ দেওয়া হলেও, এবার সেই নিয়ম কঠোরভাবে বলবৎ করল সেনা।
শুভেন্দু অধিকারী সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতেও কলকাতার ট্রাফিক সচল রাখা এবং আমজনতার সুবিধা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই রাজপথের বদলে খোলা মাঠকে বেছে নেওয়া হয়েছে৷
ভারতের সংবিধান যেহেতু প্রতিটি নাগরিককে নিজস্ব ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে, তাই খিলাফত কমিটির এই বিশাল জমায়েতকে সম্মান জানিয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মতো সুরক্ষিত ও উন্মুক্ত জায়গা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।
মঞ্চের রাজনীতিতে ইতি
বিগত তৃণমূল জমানায় রেড রোডের ইদের মঞ্চ প্রতি বছরই এক অন্য রাজনৈতিক মাত্রা পেত। মাথায় কাপড় দিয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে উপস্থিতি এবং তাঁর রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে বিস্তর চর্চা হতো। অথচ বাংলার দুই প্রাক্তন বাম মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে কখনও ইদের নমাজের মঞ্চে দেখা যায়নি। নতুন জমানায় রেড রোডের এই চেনা পলিটিক্যাল জলসায় দাঁড়ি পড়ল।
গীতা পাঠের মাঠে এবার নমাজের সুর
কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক ও নিরাপত্তা বিভাগ খতিয়ে দেখে জানিয়েছে, ব্রিগেডের মাঠে লক্ষাধিক মানুষের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। উল্লেখ্য, এই ব্রিগেড ময়দানেই কিছুদিন আগে আয়োজিত হয়েছিল ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’। এবার সেই একই ঐতিহাসিক মাঠে সম্প্রীতির আবহ নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বকরি ইদের মেগা নমাজ, যা তিলোত্তমার বুকেও এক নতুন অধ্যায়।
