কলকাতা: অবৈধ অনপপ্রবেশ রুখতে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমানাগুলিতে কড়া পদক্ষেপ করা নির্দেশ দিয়েছে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের বদলে যাওয়া জনসংখ্যা বা ডেমোগ্রাফি নিয়ে লালকেল্লা থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন৷ ছাব্বিশের মে মাসে এসে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সীমান্তে। এই হাই-ভোল্টেজ মেগা ড্রাইভের মাঝেই উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্টে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া আলটিমেটামের পরে এবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিল কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন।
করদাতাদের টাকা নষ্ট নয়, সাফ কথা মুখ্যমন্ত্রীর
হাকিমপুর সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উপচে পড়া ভিড় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, এ দেশে বসবাসকারী অবৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে ওপারে পুশব্যাক করা উচিত। পূর্বতন জমানার ভোটব্যাঙ্কের তোষণের রাজনীতিকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আইন এ দেশে চিরকালই ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে তা আলমারিতে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। এবার আর কোনও আপস নয়। এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের করের টাকায় কোনও অনুপ্রবেশকারীকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ানো বরদাস্ত করবে না নতুন সরকার।"
ভেরিফিকেশন ছাড়া প্রবেশ নয়, অবস্থান স্পষ্ট করল ঢাকা:
শুভেন্দু সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সমান্তরালেই আইনি জট এড়াতে দিল্লির সাউথ ব্লকের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ প্রশাসন। এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপ ডেপুটি হাইকমিশনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, উপযুক্ত প্রমাণ ও নাগরিকত্ব যাচাই বা 'ভেরিফিকেশন' ছাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "সীমান্তে যাঁদের আটক করা হচ্ছে, তাঁদের তালিকা আমাদের কাছে এলে আমরা তা ঢাকায় পাঠাব। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে তাঁরা সত্যিই বাংলাদেশের বাসিন্দা, তবে তাঁদের ফিরিয়ে নিতে কোনও সমস্যা নেই। এটি একটি রুটিন প্রশাসনিক কাজ।"
তবে একটি বাস্তব সমস্যার কথাও মেনে নিয়েছেন ওই কূটনীতিক। তাঁর কথায়, অনেকের কাছেই নিজেদের বাংলাদেশি প্রমাণের মতো নথিপত্র থাকে না। তখন কিছুটা জট তৈরি হয়। তবে দিল্লি ও কলকাতার সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রকৃত নাগরিকদের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে।
