হরমুজে মাঝরাতে আমেরিকার বোমাবর্ষণ, আকাশসীমাতেই মার্কিন ড্রোন গুঁড়িয়ে দিল ইরান!



ওয়াশিংটন: একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে দোহায় যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরের আকাশে একে অপরকে ধ্বংস করার উন্মাদনা। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল আমেরিকা ও ইরান। ওয়াশিংটনের বিমান হামলার জবাবে কড়া প্রত্যাঘাত হানল তেহরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)। মঙ্গলবার তারা দাবি করেছে, ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক ‘MQ-9’ ড্রোনকে ক্ষেপণাস্ত্র দেগে মাঝআকাশেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, একটি মার্কিন ফাইটার জেটকে লক্ষ্য করেও গোলাবর্ষণ করেছে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।


শান্তি আলোচনার মাঝেই মাঝরাতে বোমাবর্ষণ

এই নতুন করে ঘনীভূত হওয়া উত্তেজনার আগুন জ্বলে ওঠে সোমবার মধ্যরাতে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTOM)-এর যুদ্ধবিমান আচমকাই দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন বিছানো বোটগুলোকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। মার্কিন ফৌজের দাবি, নিজেদের সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতারে পৌঁছান ইরানি কূটনীতিকরা।


ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি নতুন সুপ্রিম লিডারের

মার্চ মাসে ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর এই প্রথম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে নীরবতা ভাঙলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। ইদ-উল-আজহার বার্তায় ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি নিশানা করে তিনি স্পষ্ট জানান, সময়ের চাকা আর উল্টো ঘুরবে না। মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশ বা মাটি আর মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলোর জন্য ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। আমেরিকা দিন দিন এই অঞ্চলে তার পুরনো প্রভাব হারাচ্ছে।


ট্রাম্পের শর্ত ও হরমুজের লকগেট

বিশ্বের প্রধান জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ ইরান অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। বর্তমানে ২ মাসের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও মূল জট পেকেছে এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে। একদিকে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন খসড়া চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লাগবে, অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার প্রশংসা করলেও শর্ত দিয়েছেন ব্যর্থ হলে ফের হামলা হবে। এমনকি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করারও দাবি তুলেছেন তিনি। শান্তি বৈঠকের সমান্তরালে চলতে থাকা এই আকাশযুদ্ধ বিশ্বকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।