কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে শাসনভার বদলের পর প্রশাসনিক সংস্কৃতিতেও এক বড়সড় মেকওভারের সাক্ষী থাকছে রাজ্যবাসী। সাধারণ মানুষের দুয়ারে যাওয়ার পরিবর্তে, আমজনতার যাবতীয় ক্ষোভ-বিক্ষোভের কথা নিজের কানে শুনতে প্রতি সোমবার ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, সোমবার ছিল তাঁর এই জনসংযোগ অভিযানের দ্বিতীয় দিন। আর এই দ্বিতীয় সপ্তাহেই সল্টলেকের দলীয় সদর দপ্তরের সামনে আক্ষরিক অর্থেই আছড়ে পড়ল মানুষের ঢল। বিশেষ করে বিগত জমানার স্কুল ও সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বঞ্চনার শিকার হওয়া কয়েকশো যোগ্য চাকরিপ্রার্থী ভোর থেকেই এখানে ভিড় জমান।
কীভাবে চলছে স্ক্রিনিং ও টোকেন মেকানিজম?
শত শত মানুষের এই রেকর্ড ভিড়কে সুশৃঙ্খল এবং আইনি সুরক্ষায় বেঁধে রাখতে এক কড়া প্রশাসনিক ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর-
ফার্স্ট স্ক্রিনিং কাউন্টার: সল্টলেক অফিসের প্রবেশদ্বারে খোলা হয়েছে বিশেষ হেল্পডেস্ক। সেখানে আসা প্রত্যেক নাগরিকের নাম ও নির্দিষ্ট কমপ্লেন খতিয়ে দেখে কম্পিউটারাইজড এন্ট্রি করা হচ্ছে।
টোকেন সিস্টেম: নাম নথিভুক্ত হতেই আবেদনকারীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে একটি টোকেন নম্বর।
কড়াকড়ি সাক্ষাৎকারে: নিচে বসার জায়গায় নম্বর ধরে অ্যানাউন্সমেন্ট হওয়ার পর, প্রার্থীদের পাঠানো হচ্ছে ফার্স্ট ফ্লোরে মুখ্যমন্ত্রীর খাস কামরায়। তবে নিরাপত্তার কারণে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে একবারে ৫ জনের বেশি প্রতিনিধিকে শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি হতে দেওয়া হচ্ছে না।
তিল তিল করে গড়ে ওঠা বঞ্চনার পাহাড়, নজর নবান্নের দিকে
এদিন প্রায় ১৫টি পৃথক চাকরিপ্রার্থী কো-অর্ডিনেশন কমিটির ৩০ থেকে ৪০ জন করে প্রতিনিধি এখানে স্মারকলিপি জমা দিতে আসেন। তাঁদের দাবি, বিগত ১৩ বছর ধরে চলতে থাকা নিয়োগের এই চরম অচলাবস্থা একমাত্র প্রশাসনিক সদিচ্ছাতেই দূর হওয়া সম্ভব। চাকরিহারা আন্দোলনকারীদের একাংশের বক্তব্য, "শুভেন্দুবাবু যখন বিরোধী আসনে ছিলেন, তখন আমাদের আন্দোলনে ছায়া দিয়েছিলেন। আজ তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাই আমাদের বিশ্বাস, তিনি নবান্নে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের ট্রাইব্যুনাল বা বৈঠকের ব্যবস্থা করে দ্রুত আমাদের আইনি জট কাটাবেন।"
জনতার দরবার সেরেই পুলিশের শীর্ষস্তরে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
আজকের এই গ্রিভান্স সেল পর্ব মিটতেই রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে খবর, এই হাই-প্রোফাইল মেগা রিভিউ বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন খোদ রাজ্য পুলিশের ডিজি (DG), এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এবং ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি। নতুন জমানায় রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মজবুত করা এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কোনও বড়সড় ও নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদলের নির্দেশ জারি করতে পারেন বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।
