| ফাইল ছবি: জিনজিয়াংয়ের হামি অঞ্চলে উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়া সামরিক অবকাঠামো ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। |
ওয়াশিংটন: পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে চিন। এবার উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে এমন এক বিশাল সামরিক অবকাঠামো, যা আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য পরমাণু সংঘাতের পরিস্থিতিতে নিজের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীকে অক্ষত রাখার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বেজিং।
উত্তর-পশ্চিম চিনের জিনজিয়াং অঞ্চলের হামি পরমাণু সাইলো ক্ষেত্রের কাছে বিস্তীর্ণ মরুভূমি এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এই নতুন নেটওয়ার্ক। কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পরিকাঠামোর মধ্যে রয়েছে মোবাইল মিসাইল লঞ্চারের জন্য নির্দিষ্ট অবস্থান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাঁটি এবং আধুনিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।
নজর কেড়েছে অষ্টভুজাকৃতি নির্মাণ
সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি করেছে দুটি বিশাল অষ্টভুজ আকৃতির স্থাপনা। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দাবি, এগুলি শুধুমাত্র সামরিক আবাসন নয়, বরং চিনের কৌশলগত পরমাণু বাহিনীর কেন্দ্রীয় সমন্বয় ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।
স্থাপনাগুলির চারদিকে গড়ে তোলা হয়েছে সুরক্ষিত বাঙ্কার, অস্ত্র মজুতের এলাকা, বিমানঘাঁটি এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলার পরেও যাতে পরমাণু কমান্ড কাঠামো সচল থাকে, সেই উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
কার্নেগি এন্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক টং ঝাও জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল পরমাণু বাহিনীর কমান্ড, কন্ট্রোল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তোলা।
দ্রুত বাড়ছে চিনের ওয়ারহেড ভাণ্ডার
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের মূল্যায়ন বলছে, পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে চিন। অনুমান করা হচ্ছে, এই দশকের শেষ নাগাদ দেশটির হাতে প্রায় এক হাজার পরমাণু ওয়ারহেড থাকতে পারে।
একই সঙ্গে উন্নত করা হচ্ছে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও। 'হুওয়ান-১' নামে পরিচিত চিনের উপগ্রহভিত্তিক নজরদারি প্রযুক্তি শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শনাক্ত করতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। এর ফলে সম্ভাব্য হামলার খবর দ্রুত সামরিক নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে যায় এবং পালটা প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যায়।
বদলাচ্ছে বৈশ্বিক পরমাণু সমীকরণ
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং সেগুলিকে টিকিয়ে রাখার জন্য বহুস্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকেও জোর দিচ্ছে চিন। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে বিশ্ব রাজনীতি ও কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বেজিংয়ের এই নতুন পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে চলেছে। আর সেই কারণেই হামির মরুভূমিতে তৈরি হওয়া এই রহস্যময় সামরিক কমপ্লেক্স এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।