কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে আর কোনও ধোঁয়াশা নয়, ক্ষমতা বদলের পর এবার সোজা নবান্ন থেকে বড়সড় সংস্কারের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যজুড়ে অফিশিয়ালি কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র। বুধবার এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, পূর্বতন জমানার এই মেগা সামাজিক প্রকল্পকে এবার সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত এবং স্বচ্ছ করতে চলেছে তাঁর সরকার। আর সেই কারণেই স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে বাদ পড়তে চলেছে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো ও অভারতীয় উপভোক্তার নাম।
তড়িঘড়ির প্রয়োজন নেই, মিলবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও
নতুন সরকারের এই মেগা এনরোলমেন্ট ড্রাইভ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যাতে কোনও আতঙ্ক তৈরি না হয়, সেই আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, "যতদিন না কোনও উপভোক্তা অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন, ততদিন তিনি পুরনো নিয়মেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আর্থিক সাহায্য পেতে থাকবেন। তাড়াহুড়ো করার কোনও প্রয়োজন নেই, ৩ মাস ধরে এই ফর্ম পূরণের কাজ চলবে।"
নবান্নের মেগা প্ল্যান: এক নজরে ৭টি বড় গাইডলাইন
১. আবেদনের সময়সীমা: আগামী ১ জুন থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী ৩ মাস অর্থাৎ অগস্টের শেষ পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইনে ফর্ম জমা নেওয়া হবে।
২. ফর্ম পাওয়ার ঠিকানা: উপভোক্তারা নিজেদের এলাকার বিডিও (BDO) অফিস এবং পুরসভা থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন।
৩. বাড়ি বাড়ি তল্লাশি: ফর্ম জমা দেওয়ার পর সরকারি আধিকারিকেরা সরাসরি উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেওয়া তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশন করবেন।
৪. আধিকারিকদের বিশেষ টিম: পুরো প্রক্রিয়ার তদারকিতে থাকছেন খোদ মুখ্যসচিব ও অর্থসচিব। ভোটার তালিকা ও আধারের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা কর্মীদের এই ভেরিফিকেশনে নামানো হচ্ছে।
৫. বিধায়কদের ভূমিকা: সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নবনির্বাচিত বিধায়কদেরও ময়দানে নামার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফর্ম পূরণে কোনও সমস্যা হলে সরকারি কর্মীরা বাড়ি গিয়ে সাহায্য করবেন।
৬. ফর্মে বাড়তি তথ্যের ছক: এই নতুন ফর্মে আবেদনকারীর পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে সেই ডেটা ব্যবহার করে পরিবারটিকে অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া যায়।
৭. জনকল্যাণ শিবির: ফর্ম পূরণের সহায়তার জন্য আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ বা স্পেশাল ক্যাম্প করবে প্রশাসন।
লক্ষ্য শুধু উপযুক্তরাই
বিগত জমানার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম তালিকাটি সম্পূর্ণ ভেরিফাইড, কিন্তু কাজ করতে গিয়ে ভুয়ো প্রাপকদের ভূরি ভূরি অভিযোগ সামনে এসেছে। এ দেশে থেকে অভারতীয়রা সরকারি কোষাগারের টাকা তুলবে, তা নতুন সরকার বরদাস্ত করবে না। মৃত ও ভুয়োদের নাম ছেঁটে ফেলে শুধু উপযুক্ত মানুষদের হাতেই এই টাকা তুলে দেওয়া হবে।"
