কাকলির পর এবার বেসুরো সুখেন্দুশেখর! রোমান ইতিহাস টেনে তৃণমূলকে বিঁধলেন সাংসদ

তৃণমূলের নির্বাচনী ভরাডুবি ও নৈরাজ্য নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়

 কলকাতা: কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতির চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যেই জোড়াফুল শিবিরে এবার আরও বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই এবার সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং জমানার ‘নৈরাজ্য’ নিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন তৃণমূলের প্রবীণতম রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।


মঙ্গলবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে রোমান সাম্রাজ্যের পতনের ইতিহাস টেনে তিনি এক লাইনের একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন। সুখেন্দুবাবু লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছেন।” প্রবীণ এই সাংসদের এমন ‘বেসুরো’ কামড় যে নবান্নের হাতবদলের পর তৃণমূলের কফিনে আরও একটি বড় পেরেক, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।


তৃণমূল তাড়াতে ভোট, ক্ষোভের ময়নাতদন্ত

দলের এই শোচনীয় ফলাফল নিয়ে প্রকাশ্যে সবিস্তার কিছু না বললেও, ঘনিষ্ঠমহলে তৃণমূলের এই ভরাডুবির কঠোর ময়নাতদন্ত করেছেন ছয় দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। সুখেন্দুবাবুর স্পষ্ট কথা, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যেভাবে বামফ্রন্ট তথা সিপিএমকে তাড়াতে ভোট দিয়েছিল, ২০২৬ সালেও তার অন্যথা হয়নি। সেবার মানুষ বামেদের সরাতে তৃণমূলকে এনেছিল, এবার তৃণমূলকে তাড়াতে বিজেপি-কে ভোট দিয়েছে। ২০২৪-এর লোকসভায় ২৯টি আসন জেতার মাত্র দু’বছরের মধ্যে কীভাবে এই ধস নামল, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।


আরজি করের দেওয়াল লিখন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি

সুখেন্দুশেখরের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, মূলত তিনটি কারণে দলের এই বিপর্যয় হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। প্রথমত, ২০২৪ সালের আগস্টে আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের পর লক্ষ লক্ষ মানুষের রাজপথে নেমে আসাই ছিল প্রথম অশনিসংকেত, যা পড়তে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। দ্বিতীয়ত, তৃণমূলের দুর্নীতি ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ রূপ নিয়েছিল। সুখেন্দুর এক ঘনিষ্ঠের কথায়, "পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো গ্রামে সবচেয়ে বড় বাড়িটি যাঁর, তিনি তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান। এই দুর্নীতি মানুষ খালি চোখে দেখেছে, এর জন্য বাইরে থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসার দরকার নেই।"


শুদ্ধকরণের ডাক প্রবীণ সাংসদের

কংগ্রেসি ঘরানার এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সংবিধান ও সংসদীয় রাজনীতিতে অগাধ পাণ্ডিত্য থাকা সুখেন্দুবাবু এর আগেও আরজি কর আন্দোলনের সময় ফরাসি বিপ্লব ও বাস্তিল দুর্গের পতন টেনে দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এবার তিনি সাফ জানিয়েছেন, তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর খোলনলচে বদলে যদি দ্রুত শুদ্ধকরণ না করা হয়, তবে আগামী দিনে দলের অস্তিত্ব আরও সঙ্কটাপন্ন হবে।


কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মুখ্য সচেতকের পদ খোয়ানো এবং শুভেন্দুর দরবারে হাজিরা দেওয়ার পর সুখেন্দুশেখরের এই ‘রোমান’ তোপ জোড়াফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে এক ধাক্কায় প্রকাশ্য রাস্তায় এনে দাঁড় করাল।