ব্যাগ ভর্তি ওষুধ-৮০ লক্ষ ক্যাশ! পালাবার আগেই মাঝরাতে পুলিশের জালে বাদুড়িয়ার তৃণমূল চেয়ারম্যান




কলকাতা: বাংলায় শাসনভার বদল হতেই জেলায় জেলায় বিগত জমানার দুর্নীতির পর্দাফাঁস শুরু। এবার চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ২৪ পরগনায় পুলিশের বড়সড় হানায় শ্রীঘরে গেলেন জোড়াফুল শিবিরের দুই প্রভাবশালী নেতা। একজন বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, অন্যজন পাথরপ্রতিমার তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গৌতম আড়ি। ওয়ান-টু-ফোর বাউন্ডারির মতো এই দুই নেতার ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ৮০ লক্ষ টাকা, ৪ হাজার পিস সরকারি ত্রিপল, কম্বল ও মাছের খাবার। এই জোড়া গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।


পালাবার পথ বন্ধ! ওটিটি স্টাইলে ধৃত পুরপ্রধান

বেশ কিছুদিন ধরেই পুরসভায় গরহাজির ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার দাপুটে পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানি ও সরকারি ত্রাণ লোপাটের ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়ছিল। সোমবার রাতে পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে, এলাকারই একটি হোটেলে নাম ভাঁড়িয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন তিনি। মাঝরাতে সেখানে আচমকা হানা দিয়ে দীপঙ্করকে পাকড়াও করে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হয় নগদ ৮০ লক্ষ টাকা এবং ওষুধ ও পোশাকে ঠাসা দুটি বড় ট্রাভেল ব্যাগ। পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের জন্য বেপাত্তা হওয়ার ব্লু-প্রিন্ট কষেছিলেন তিনি। এর আগে তৃণমূলের দফতর ও বাগানবাড়ি থেকে ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। সিপিএম ও বিজেপির জোড়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে আজই তাঁকে বসিরহাট আদালতে তোলা হচ্ছে।


সুন্দরবনে নেতার বাড়ি ঘেরাও, তালা ভাঙতেই উদ্ধার ত্রাণের পাহাড়

অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার দূর্বাচটি গ্রাম পঞ্চায়েতে দেখা গেল অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গৌতম আড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সুন্দরবনের গরিব মানুষের জন্য আসা ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ তিনি নিজের বাড়ির গুদামে লুকিয়ে রেখেছিলেন। সোমবার রাতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ও বিজেপি কর্মীরা তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় রাতেই সেখানে পৌঁছায় পাথরপ্রতিমা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও বিডিও অফিসের আধিকারিকরা।


প্রশাসনের উপস্থিতিতেই নেতার বাড়ির গোপন গুদামের তালা ভাঙা হয়। আর তাতেই চোখ চড়কগাছ তদন্তকারীদের! ভেতর থেকে উদ্ধার হয় সরকারি কম্বল, ত্রিপল, পান-বরজের চট এবং মাছের খাবারের স্তূপ। সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই গ্রেফতার করা হয় গৌতমকে।