সুর বদল প্রাক্তন মন্ত্রীর! ভোটের ময়দান থেকে চিরতরে সরছেন ইন্দ্রনীল



হুগলি: ক্ষমতার পালাবদলের পরেই তৃণমূল শিবিরের অন্দরে হেভিওয়েট নেতাদের অবস্থান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে৷ এরই মধ্যে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। চন্দননগর আসনটি হাতছাড়া হওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সংসদীয় রাজনীতির অলিন্দ থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। চন্দননগরের নির্বাচনী ফলাফলের পর ভোট রাজনীতি নিয়ে তাঁর মোহভঙ্গ হয়েছে৷ আগামী দিনে তিনি আর নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হবেন না।


শিল্পী সত্তাই জয়ী, ইতি রাজনীতির ইনিংসে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সংস্কৃতি জগত থেকে সোজা রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা ইন্দ্রনীল সেন চন্দননগর থেকে পর পর দু’বার জিতে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু ছাব্বিশের ভোট যুদ্ধে চন্দননগর হাতছাড়া হতেই তাঁর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। একটি টেলিভিশন মাধ্যমকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে গায়ক-রাজনীতিবিদ স্পষ্ট বলেন, "আমি রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও একজন পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। আমায় মানুষ শিল্পী ও গায়ক হিসেবেই ভালোবাসেন। আমি মানুষের জন্য কাজ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, তবে হয়তো কিছু পারিনি। তার জন্য আমি কাউকে কাঠগড়ায় তুলব না।"

চন্দননগরের ধাক্কায় বড় শিক্ষা!

নির্বাচনে আর টিকিট না চাওয়ার প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীলবাবুর জবাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, "চন্দননগরে এবার যা ঘটল, তারপর ভোট রাজনীতি নিয়ে আমার মোহভঙ্গ হয়েছে। আমাদের মতো শিল্পীরা ভীষণ সংবেদনশীল হন, অল্পতেই কেঁদে ফেলেন। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর নির্বাচনে লড়ব না। তবে হ্যাঁ, কাল কী হবে তা তো কেউ জানে না!"

মমতা-অভিষেকের সঙ্গে কি দূরত্ব বাড়ল?

ভোটের লড়াই থেকে সরলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে বলেই দাবি করেছেন প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী। তবে এখন থেকে তিনি তাঁর পুরনো চেনা সাম্রাজ্য অর্থাৎ গান-বাজনা এবং সংস্কৃতির জগতেই নিজেকে সঁপে দিতে চান। দলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তাঁর মন্তব্য, "তৃণমূলের সঙ্গে তো বটেই, এমনকি আমার যে সব বন্ধুবান্ধব অন্য দলের মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, তাদের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ আগের মতোই আছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনও আত্মিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে না।"