মেক ইন ইন্ডিয়ায় বড় সাফল্য, ওমান থেকে ভারতে এল ব্রিটানিয়ার উত্তর আমেরিকা এক্সপোর্ট ব্যবসা
মেক ইন ইন্ডিয়ায় বড় সাফল্য
ভারতীয় উৎপাদন খাতের জন্য বড় খবর। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় FMCG সংস্থা Britannia Industries তাদের উত্তর আমেরিকার এক্সপোর্ট ব্যবসা ওমান থেকে সরিয়ে ভারতের গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে নিয়ে এসেছে। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি কমাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে সংস্থা সূত্রে খবর।
কেন ওমান থেকে ভারতে সরল ব্যবসা?
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির জেরে অনেক সংস্থাই বিকল্প সাপ্লাই রুট খুঁজছে। সেই প্রেক্ষাপটে ব্রিটানিয়া উত্তর আমেরিকায় রফতানির জন্য ভারতকেই নতুন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মুন্দ্রা থেকে উত্তর আমেরিকার বাজারে পণ্য পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মুন্দ্রা বন্দরেই রফতানির নতুন কেন্দ্র
গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দর এখন থেকে ব্রিটানিয়ার উত্তর আমেরিকা এক্সপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে চলেছে। বিস্কুট, ক্র্যাকার এবং অন্যান্য বেকারি পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত লজিস্টিক সুবিধা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে জোর
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কর্মসংস্থান, প্যাকেজিং, পরিবহণ এবং বন্দরভিত্তিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের ক্ষেত্রেও এটিকে বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আর্থিক ফলাফলেও চমক ব্রিটানিয়ার
সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক ফলাফলে ব্রিটানিয়ার মুনাফাতেও বড় বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থার কনসলিডেটেড নেট প্রফিট ২১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বাজারের চাপ, জ্বালানি ও প্যাকেজিং খরচ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এই ফলাফলকে শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কুইক কমার্সে বাড়ছে সাফল্য
বর্তমান সময়ে FMCG ব্যবসায় অনলাইন ও কুইক কমার্স বড় ভূমিকা নিচ্ছে। দ্রুত ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিস্কুট, স্ন্যাকস ও প্যাকেজড ফুডের চাহিদা বাড়ছে। ব্রিটানিয়ার মতো সংস্থাগুলি সেই বাজারেও নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে।
ভারত কি নতুন গ্লোবাল উৎপাদন কেন্দ্র?
ব্রিটানিয়ার এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দিচ্ছে, ভারতীয় কোম্পানিগুলি এখন শুধু দেশের বাজার নয়, বিশ্ববাজারের জন্যও ভারতকে উৎপাদন ও রফতানির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। আগামী দিনে আরও সংস্থা তাদের রফতানি ও উৎপাদন ব্যবস্থা ভারতে সরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন