ডিজে বাজানোয় কড়া নিষেধাজ্ঞা! দাসপুরে মাইক ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক, নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপ
শব্দদূষণ রুখতে দাসপুরে পুলিশের কড়া বার্তা
শব্দদূষণ রোধে এ বার কড়া পদক্ষেপের পথে পুলিশ প্রশাসন। শনিবার দাসপুর থানায় মাইক ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেন ওসি প্রদীপ সিংহ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২৫ জন মাইক ব্যবসায়ী। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় আয়োজনে উচ্চস্বরে ডিজে বাজানো যাবে না। সরকারি নির্দেশিকা না মানলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দাসপুর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনে জেলায় জেলায় তৎপরতা শুরু হয়েছে। সেই অনুযায়ী থানায় মাইক ব্যবসায়ীদের ডেকে সচেতন করা হচ্ছে।
নিয়ম না মানলে আইনি ব্যবস্থা
বৈঠকে মাইক ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠান বা উৎসবে মাইক ব্যবহার করতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতেই হবে। বিশেষ করে উচ্চ শব্দে ডিজে বাজানো, গভীর রাত পর্যন্ত মাইক চালানো বা অনুমতি ছাড়া সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি থাকবে।
দাসপুর থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, শব্দদূষণ নিয়ে সরকারের বিধিনিষেধ সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ডিজে বাজানো যাবে না, আর নিয়ম না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
মাইক ব্যবসায়ীদের কী বক্তব্য?
বৈঠকে উপস্থিত মাইক ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, তাঁরা প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলবেন। সন্তু দাস নামে এক মাইক ব্যবসায়ী বলেন, ডিজে বাজানো নিয়ে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শব্দদূষণ এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে এবং সরকারের গাইডলাইন মেনে চলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও সম্প্রতি ডিজের দৌরাত্ম্য এবং শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শীতলা পুজোর মাইক ঘিরে উত্তেজনার পর তৎপরতা
এই পদক্ষেপের পিছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার রাতে দাসপুর থানার জ্যোতিসব গ্রামে শীতলা পুজো উপলক্ষে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, কয়েকজন মত্ত যুবক মাইক অপারেটরের মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এর পরেই দাসপুর থানার পক্ষ থেকে মাইক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে শব্দদূষণ ও ডিজে ব্যবহারের বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়।
উৎসব-অনুষ্ঠানে কী মানতে হবে?
প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—উৎসব বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা যাবে, কিন্তু শব্দদূষণ করা যাবে না। অনুমতি ছাড়া মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার, নির্ধারিত সময়ের বাইরে মাইক বাজানো এবং উচ্চস্বরে ডিজে চালানো হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সাধারণ মানুষের শান্তি, অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই শব্দ নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনের দাবি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন