লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি বাতিল? জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নবান্ন থেকে বড় বার্তা শুভেন্দুর
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আমজনতার অন্দরমহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার জনহিতকর প্রকল্পগুলো কি তবে অতীত হতে চলেছে? বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন রাজ্যের কোটি কোটি মহিলা। সোমবার নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক সেরে সেই উদ্বেগের মেঘ কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাফ জানিয়ে দিলেন, সামাজিক সুরক্ষা মূলক কোনও জনকল্যাণমুখী কাজই স্তব্ধ করবে না নতুন সরকার।
বন্ধ নয়, বরং আসবে ‘স্বচ্ছতা’:
সাংবাদিক সম্মেলনে নতুন মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন যে, বিগত দশ বা তিরিশ বছরে যে সব সামাজিক প্রকল্প সাধারণ মানুষের হিতের জন্য শুরু হয়েছিল, তা বহাল থাকবে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “জনস্বার্থে চালু থাকা কোনও প্রকল্পই আমরা বন্ধ করছি না। তবে সেগুলোতে স্বচ্ছতা আনা হবে।” মুখ্যমন্ত্রী কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যোগ্য প্রাপকরা যাতে বঞ্চনার শিকার না হন এবং ভিনদেশি কেউ যাতে অনৈতিকভাবে সরকারি সুবিধা না পায়, তা কঠোরভাবে নজরদারি করবে প্রশাসন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সমীকরণ:
বিজেপির ‘সংকল্প পত্রে’ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে। বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে মহিলারা ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা পান। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বর্তমান প্রকল্পটি বন্ধ না করে সেটিকে আরও পরিমার্জিত ও আধুনিক রূপ দিয়েই সম্ভবত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নাম দেবে নতুন মন্ত্রিসভা। যদিও টাকার অঙ্ক বৃদ্ধি নিয়ে এদিন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
পরবর্তী লক্ষ্য আরজি কর ও ডিএ:
এদিনের বৈঠকে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ডিএ বা নারী নিরাপত্তার মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সোমবার ফের মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আরজি কর ইস্যু এবং সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সেই বৈঠকে বড় কোনও চমক থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটায় স্বস্তিতে রাজ্যের মহিলা মহল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন