Dilip Ghosh: দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য! বুলডোজার অভিযান থেকে মমতা, চিংড়িঘাটা মেট্রো— একসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে তোপ

Author
By Bapan Biswas
Published:
Follow Us

খড়গপুরে চা-চক্রে দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য, চিংড়িঘাটা মেট্রো, হাওড়া বুলডোজার এবং মমতা প্রসঙ্গ

খড়গপুরের চা-চক্রে একাধিক ইস্যুতে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ

রবিবার সকালে খড়গপুর শহরের বুকদা এলাকায় চা-চক্রে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী তথা খড়গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। সেখানেই তিনি একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মন্তব্য করেন। চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ, হাওড়া স্টেশনে বুলডোজার অভিযান, এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা— সব নিয়েই কড়া সুরে প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হওয়ার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ নিয়ে কী বললেন?

চিংড়িঘাটায় বহুদিন ধরে আটকে থাকা মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবেই তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ১৫ তারিখ থেকে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের জট কেটে গেলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।

দিলীপের দাবি, জনতার করের টাকায় হাজার-হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও এতদিন তার বাস্তব সুফল মানুষ পাচ্ছিলেন না। তিনি বলেন, রাস্তাও ঠিকমতো চলছিল না, সরকারি বাসও সমস্যায় পড়ছিল, মেট্রো পরিষেবাও শুরু হচ্ছিল না— ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছিল। তাঁর মতে, মেট্রোর কাজ দ্রুত শেষ হলে নিউ টাউন, চিংড়িঘাটা ও সংলগ্ন এলাকার যানজট অনেকটাই কমবে

হাওড়া স্টেশনের বুলডোজার অভিযান নিয়ে কড়া বার্তা

শিয়ালদহের পর হাওড়া স্টেশন চত্বরেও বুলডোজার অভিযান নিয়ে মুখ খুলেছেন দিলীপ ঘোষ। রেল পুলিশের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, রেলের জায়গা সরকারি জায়গা, সেখানে জবরদখল করে বসে থাকা চলতে পারে না।

তাঁর অভিযোগ, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে কিছু মানুষ লাভ নিচ্ছে এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক ছত্রছায়াও রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এই মুহূর্তে করা সম্ভব হয়নি, দিলীপ ঘোষের বক্তব্য— ধাপে ধাপে এইসব জায়গা “ক্লিয়ার” করে দেওয়া হবে।

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি কার্যত অবৈধ দখলদারি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও তীব্র কটাক্ষ

দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের সবচেয়ে চর্চিত অংশ নিঃসন্দেহে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর কটাক্ষ। কালীঘাটে দলের লিগাল সেলের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন— দলকে “নেশার মতো” করতে হবে, এবং ভোট-পরবর্তী অশান্তির শিকারদের আইনি সাহায্য দিতে হবে— সেই প্রসঙ্গেই প্রশ্ন করা হলে তীব্র ভাষায় জবাব দেন দিলীপ।

তিনি মন্তব্য করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন “লিগ্যাল সেলের লিডার” হয়ে যান, সেটাই নাকি ভালো। তাঁর আরও বক্তব্য, তিনি বিধানসভায় আসতে পারবেন না, বিরোধী দলনেতাও হতে পারেননি, তাই কোথাও তো থাকতে হবে। এমনকি মমতার কালো কোট পরা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে প্রায় সাড়ে বারো হাজার মামলা রয়েছে, এবং সেই সমস্ত মামলাই নাকি এবার নতুন করে খোলা হতে পারে। যদিও এই সংখ্যা বা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারি স্তরে আলাদা করে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি, তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে?

খড়গপুরের এই চা-চক্রে দিলীপ ঘোষের ধারালো মন্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই এখন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ নেই— তা পৌঁছে যাচ্ছে মেট্রো, উচ্ছেদ অভিযান, আইনি সহায়তা এবং ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির মতো নানা সংবেদনশীল ইস্যুতেও।

একদিকে উন্নয়ন ও সরকারি কাজের গতি নিয়ে সরকারের পক্ষে সওয়াল, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেত্রীকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ— সব মিলিয়ে দিলীপ ঘোষের এ দিনের বক্তব্য আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন
Facebook WhatsApp X

মন্তব্যসমূহ