নতুন প্যাকেটে মেয়াদোত্তীর্ণ বিষাক্ত খাবার! দমদমে পর্দাফাঁস ভয়ংকর চক্রের, উদ্ধার বিপুল পণ্য

Expired food repackaging scam busted in Dumdum area West Bengal

 
কলকাতা: আমরা বাজার থেকে প্যাকেটজাত যে খাবার কিনে খাচ্ছি, তা আসলে কতটা নিরাপদ? দমদম এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নতুন প্যাকেটে ভরে ফের বাজারে বিক্রির যে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে, তা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশাসন ও খাদ্য দফতরের যৌথ অভিযানে ইতিমধ্যেই এই চক্রের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক সামগ্রী।

কীভাবে চলত এই মারণ-চক্র? অভিযোগ, মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া খাবার ও প্যাকেটজাত সামগ্রীতে নতুন স্টিকার লাগিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে ফের তা বাজারে ছাড়া হচ্ছিল। পুরনো প্যাকেট বদলে নতুন মোড়কে বিক্রির এই রমরমা কারবার চলছিল দিনের পর দিন। এমনকী, অত্যাধুনিক মেশিন ব্যবহার করে কিছু পণ্যের উৎপাদনের তারিখ ও এক্সপায়ারি ডেট (Expiry Date) পুরোপুরি বদলে ফেলার মতো সাঙ্ঘাতিক অভিযোগও উঠেছে।

যৌথ অভিযানে উদ্ধার বিপুল সামগ্রী: খবর পেয়ে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও স্থানীয় থানার পুলিশ। তল্লাশিতে মেলে বিপুল পরিমাণ প্যাকেটজাত খাবার, সন্দেহজনক রিপ্যাকিং সামগ্রী, প্রিন্টিং ও স্টিকার লাগানোর সরঞ্জাম এবং বেশ কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য।

স্ক্যানারে গোটা চক্র, বাড়ছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি: ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও পুলিশের নজরে এখন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— কতদিন ধরে এই মারণ কারবার চলছিল? কোন কোন এলাকার দোকানে এই ভেজাল পণ্য সরবরাহ করা হত? এর নেপথ্যে বড় কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িত কি না? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কড়া সতর্কবার্তা, এই ধরণের মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেলে চরম খাদ্যবিষক্রিয়া (Food Poisoning), পেটের সমস্যা ও গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে। এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে এখন কড়া আইনি পদক্ষেপের পথেই হাঁটছে প্রশাসন।