পারস্য উপসাগরে ইরান-কুয়েত টানাপোড়েন, নৌকায় হামলা ও ৪ ইরানি আটক ঘিরে পাল্টাপাল্টি দাবি

Author
By স্টারফ্লিক্স বাংলা ডেস্ক
Published:
Follow Us f

পারস্য উপসাগরে ইরান কুয়েত টানাপোড়েন বুবিয়ান দ্বীপের কাছে ৪ ইরানি আটক ও IRGC অভিযোগ


পারস্য উপসাগরে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা

পারস্য উপসাগরে একটি ইরানি নৌকা আটক এবং ৪ ইরানি নাগরিককে গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও কুয়েতের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই ঘটনাকে “বেআইনি” বলে দাবি করেছেন এবং আটক নাগরিকদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কুয়েতের দাবি, আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বুবিয়ান দ্বীপের কাছে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা IRGC-র যোগ রয়েছে।

ইরানের দাবি, ‘বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা’

আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেন, কুয়েত অন্যায়ভাবে একটি ইরানি নৌকায় হামলা চালিয়ে ৪ ইরানি নাগরিককে আটক করেছে। তাঁর দাবি, ঘটনাটি এমন এক দ্বীপের কাছে ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করেছে। ইরান এই ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে দেখছে এবং আটক নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

তেহরানের বক্তব্য, আটক ব্যক্তিরা নিয়মিত সামুদ্রিক টহলে ছিলেন এবং নেভিগেশন সমস্যার কারণে ভুল করে কুয়েতের জলসীমায় প্রবেশ করে থাকতে পারেন। তবে কুয়েতের তোলা নাশকতার অভিযোগকে ইরান ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

কুয়েতের পাল্টা দাবি, অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছিল

কুয়েতের দাবি অনুযায়ী, ১ মে বুবিয়ান দ্বীপের কাছে একটি মাছ ধরার নৌকায় কয়েকজন ব্যক্তি ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। কুয়েতি কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযানের সময় সংঘর্ষে একজন কুয়েতি নিরাপত্তাকর্মী আহত হন এবং পরে ৪ জনকে আটক করা হয়। কুয়েতের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা IRGC-র সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁরা নাশকতামূলক কাজের পরিকল্পনা করছিলেন।

এই অভিযোগ ঘিরে কুয়েত সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। বুবিয়ান দ্বীপ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এই ঘটনা শুধু সীমান্ত অনুপ্রবেশ নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে নতুন উদ্বেগ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার আবহে পারস্য উপসাগরে এই ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলি সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য নাশকতা ও নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কুয়েতের অভিযোগ সত্যি হলে বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর বার্তা বহন করে। অন্যদিকে ইরানের দাবি সত্যি হলে এটি কূটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি বা জলসীমা সংক্রান্ত বিতর্ক হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

তদন্তের ফলের দিকে নজর

এই মুহূর্তে দুই দেশের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। ইরান আটক নাগরিকদের মুক্তি চাইছে, আর কুয়েত তদন্তের ভিত্তিতে নাশকতার অভিযোগ তুলে ধরছে। ফলে আসল ঘটনা কী, তা স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান-কুয়েত এই বিরোধ কতটা বড় আকার নেয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।


এই খবরটি শেয়ার করুন
Facebook WhatsApp X

মন্তব্যসমূহ