ইসলামাবাদ বৈঠকে আমেরিকার দুই কড়া শর্ত, হরমুজ প্রণালী ও ৬০% ইউরেনিয়াম নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র টানাপোড়েন
ইসলামাবাদ বৈঠকে আমেরিকার কড়া শর্ত
ইরান-আমেরিকা আলোচনায় নতুন বিস্ফোরক দাবি
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার ইসলামাবাদ বৈঠক নিয়ে নতুন দাবি সামনে আনলেন ইরানের আলোচনাকারী দলের সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ান। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বৈঠকে ওয়াশিংটন তেহরানের সামনে দুটি বড় শর্ত রেখেছিল—হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া। আল জাজিরার লাইভ আপডেটেও নাবাবিয়ানের এই দাবির উল্লেখ রয়েছে। তবে এই দাবি মূলত ইরানি পক্ষের বক্তব্য; আমেরিকার তরফে প্রতিটি শর্ত নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি ব্যাখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে কেন এত চাপ?
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ। সাম্প্রতিক ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মধ্যে এই পথ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। মার্কিন প্রস্তাবের প্রথম ধাপ হিসেবে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় ছিল বলে Guardian-এর রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয়েছে।
৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো নিয়ে বিতর্ক
দ্বিতীয় বড় শর্ত ছিল ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া বা নিয়ন্ত্রণে আনা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিরোধ চলছে। Reuters-কে উদ্ধৃত করে Iran International জানিয়েছিল, আমেরিকা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং বড় পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিল, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করে।
৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব ঘিরে দাবি
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই শর্তগুলি মানলে ইরানের আটকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অংশটি এখনও একাধিক স্বাধীন সরকারি সূত্রে পূর্ণভাবে নিশ্চিত নয়। তাই খবরটি প্রকাশের সময় “দাবি”, “রিপোর্ট অনুযায়ী” বা “ইরানি পক্ষের বক্তব্য” — এই সতর্ক শব্দ ব্যবহার করাই ঠিক হবে।
গালিবফের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি বলেছিলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে আঞ্চলিক অবকাঠামোর “irreversible destruction” হতে পারে।
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা
ইসলামাবাদ বৈঠককে ঘিরে প্রথমে কূটনৈতিক মহলে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও পরবর্তীতে আলোচনা এগোয়নি বলে রিপোর্টে দাবি। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে “unacceptable” বলে খারিজ করেছিলেন। এর ফলে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী, নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি—সব প্রশ্নেই নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা, ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি, আটকে থাকা অর্থ এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত—এই চারটি বিষয় এখন ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের কেন্দ্রে। আলোচনা ভেস্তে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। আবার আলোচনার দরজা খোলা থাকলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা সীমিত সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দুই পক্ষের সরকারি অবস্থান ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ। তাই এই খবরটি প্রকাশের সময় নিশ্চিত তথ্য ও দাবি—দুটিকে আলাদা করে তুলে ধরা জরুরি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন