যুদ্ধবিরতি বাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইজ়রায়েলি এয়ার স্ট্রাইক, নিহত ৬; হামাসের সামরিক প্রধানকেও হত্যার দাবি

Author
By Bapan Biswas
Published:
Follow Us

 

যুদ্ধবিরতির পর লেবাননে ইজ়রায়েলি এয়ার স্ট্রাইক, নিহত ৬ এবং হামাস সামরিক প্রধান হত্যার দাবি
ছবি: X

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়তেই নতুন করে উত্তেজনা

লেবানন-ইজ়রায়েল সংঘাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর ঘোষণা হতেই ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। ওয়াশিংটনে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইজ়রায়েলি এয়ার স্ট্রাইকে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের কাছে ইজ়রায়েলি হামলায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, নিহতদের মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও রয়েছেন।

হেজবোল্লা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা, দাবি ইজ়রায়েলের

ইজ়রায়েলি সেনার দাবি, হেজবোল্লা রকেট হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই কারণেই দক্ষিণ লেবাননে হেজবোল্লা-সংযুক্ত পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরেও এই হামলা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া আদৌ কতটা স্থায়ী হবে?

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, হামলার পর দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতির আশায় থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে ফের উদ্বেগ বাড়ছে।

গাজ়ায় হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যার দাবি

লেবাননের পাশাপাশি গাজ়াতেও বড়সড় সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে ইজ়রায়েল। ইজ়রায়েলি এয়ার স্ট্রাইকে হামাসের সামরিক শাখার শীর্ষ নেতা ইজ় আল-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, হামাসও তাঁর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। ওই হামলায় আল-হাদ্দাদের স্ত্রী ও মেয়েরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ইজ়রায়েলের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরিকল্পনায় আল-হাদ্দাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওই হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে AP-র রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

শান্তি আলোচনার মাঝেই বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

একদিকে যুদ্ধবিরতি, অন্যদিকে এয়ার স্ট্রাইক—এই দুই পরিস্থিতি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। আমেরিকার মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইজ়রায়েলের মধ্যে নতুন করে বৈঠকের কথা থাকলেও মাঠের পরিস্থিতি এখনও অস্থির।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ইজ়রায়েলের হামলা এবং গাজ়ায় হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে অভিযান—দুই মিলিয়ে অঞ্চলে নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন
Facebook WhatsApp X

মন্তব্যসমূহ