কিয়ারার সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্যে বিতর্ক: মেয়েকে ‘নিজের মতো বাঁচতে’ শেখানোর কথা বললেন অভিনেত্রী
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কিয়ারা
বলিউড অভিনেত্রী Kiara Advani আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার কোনও সিনেমা বা ব্যক্তিগত জীবন নয়, মেয়ের ভবিষ্যৎ ও সম্পর্ক নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এক পডকাস্টে অভিনেত্রী জানান, ভবিষ্যতে মেয়েকে তিনি কোনও বাঁধাধরা নিয়মে আটকে রাখতে চান না।
কিয়ারার বক্তব্য অনুযায়ী, জীবনে সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা এবং সিদ্ধান্ত— সবকিছু থেকেই মানুষ শেখে। তাই মেয়েও নিজের মতো করে জীবনকে বুঝুক, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সিদ্ধান্ত নিক— এমনটাই চান অভিনেত্রী।
সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য ঘিরে আলোচনা
কিয়ারার মন্তব্যের সবচেয়ে বেশি আলোচিত অংশ হল সম্পর্ক নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, জীবনে একজনের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে বা তাকেই বিয়ে করতে হবে— এমন কোনও বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়।
অভিনেত্রীর মতে, জীবনে বিভিন্ন সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা মানুষকে পরিণত করে। কোনও সিদ্ধান্ত পরে ভুল মনে হলেও, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ অনেক কিছু শিখতে পারে। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
নিজের জীবন নিয়েও মুখ খুললেন অভিনেত্রী
কিয়ারা জানান, নিজের জীবনেও তিনি একাধিক মানুষের সঙ্গে ডেটিং করেছেন। সেই সময় অনেক ক্ষেত্রেই মনে হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে কেউ হয়তো জীবনসঙ্গী হতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত অভিনেতা Sidharth Malhotra-কেই তিনি নিজের প্রকৃত ভালোবাসা হিসেবে পেয়েছেন।
২০২৩ সালে রাজস্থানের সূর্যগড় প্রাসাদে বিয়ে করেন কিয়ারা ও সিদ্ধার্থ। এরপর তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
কিয়ারার এই খোলামেলা মন্তব্য অনেকের কাছে আধুনিক চিন্তাভাবনার প্রতিফলন বলে মনে হয়েছে। তাঁদের মতে, সন্তানকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।
তবে অন্য একটি অংশ অভিনেত্রীর বক্তব্যে আপত্তি তুলেছে। তাঁদের দাবি, সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে এমন মন্তব্য ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে সমর্থন ও বিরোধিতা— দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।
স্বাধীনতা বনাম সামাজিক মূল্যবোধ
সম্পর্ক, বিয়ে এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কিয়ারার এই মন্তব্য এখন বলিউড মহল থেকে শুরু করে নেটদুনিয়া— সর্বত্রই আলোচনার বিষয়। কেউ বলছেন এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, আবার কেউ মনে করছেন এমন মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করবেই।
সব মিলিয়ে, কিয়ারার বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে— সন্তানকে নিজের মতো বাঁচতে শেখানো আর সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য কোথায়?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন