“১০০ আসন লুঠ হয়েছে”, ফলের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মমতা, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গড়ছে তৃণমূল

 ফলের পর প্রথম মুখ খুললেন মমতা, ভোটগণনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

ফলের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠক

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাট থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা।

বিজেপির বড় জয়, তৃণমূলের অভিযোগ

ভোটের ফলাফলে ২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে ৮০টি আসন। ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের আবহ তৈরি হয়েছে। তবে এই ফলাফল মানতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

“আমরা হারিনি”, দাবি মমতার

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ বলেন, “আমরা হারিনি। ১০০ আসন আমাদের থেকে লুঠ করা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, ভোটগণনার সময়ে একাধিক জায়গায় অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর এবং ফিরহাদ হাকিমের ওয়ার্ডে গণনা যথাযথ হয়নি বলে দাবি করেন মমতা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণনাকেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ভিতরে ছিলেন এবং সিসিটিভি বন্ধ রেখে কী হয়েছে, তা তিনি জানেন। মমতার দাবি, তাঁকে গেটে আটকানো হয় এবং তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়।

গণনাকেন্দ্র নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, গণনার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রশাসনিক স্তরে পক্ষপাতমূলক আচরণ হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রথমে আমার গাড়ি আটকায়। তারপর সিআরপিএফ গেটে আটকায়। আমি ডিইও রণধীরকে তখন বলি। আপনারা জানেন না সিসিটিভি অফ রেখে ভিতরে কী হয়েছে। আমি জানি।”

তৃণমূল নেত্রীর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এবং তৃণমূল কর্মী-নেতাদের উপর চাপ তৈরি করা হয়েছে।

ইভিএম ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রশ্ন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, গণনার সময়ে ইভিএমে ৯২ থেকে ৯৫ শতাংশ ব্যাটারি চার্জ দেখা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী।

মমতার অভিযোগ, “গট আপ বেটিং বিজেপি ও ইসি-র মধ্যে। এতে পিএম ও এইচএমের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।”

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গড়ছে তৃণমূল

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূল একটি দশ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করছে। এই কমিটি আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করবে এবং ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে।

তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভবন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলা অফিসেও আক্রমণ হয়েছে।




“আমি বাউন্স ব্যাক করব”

রাজনৈতিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি বাউন্স ব্যাক করব। যথাযথ জবাব দেব। স্বৈরাচারী আচরণ চলছে।”

তৃণমূল নেত্রীর দাবি, দলের অনেককে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ নিজের সুরক্ষার জন্য বিজেপিতে যেতে চাইলে তিনি আটকাবেন না বলেও জানান।

বিরোধী নেতাদের ফোন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, ফল প্রকাশের পর তাঁকে সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীবাল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেন-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা ফোন করেছেন।

রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে

ফল ঘোষণার পর বাংলার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। একদিকে বিজেপি বড় জয়ের দাবি করছে, অন্যদিকে তৃণমূল ফলাফল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাংবাদিক বৈঠকের পর রাজ্যে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মন্তব্যসমূহ