উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ইসরায়েলি হামলা, শিশু-সহ ৮ ফিলিস্তিনি আহত বলে দাবি PRCS-এর
উত্তর গাজায় শিশু-সহ আহত বহু
উত্তর গাজায় ফের হামলার অভিযোগ:
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় শিশু-সহ একাধিক ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বা PRCS জানিয়েছে, আল-সালাতিন এলাকা থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। WAFA-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় গাজা উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েলি হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ৮ জন অসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
বেইত লাহিয়ার আল-সালাতিন এলাকায় উদ্ধারকাজ:
PRCS-এর দাবি, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার পশ্চিমে আল-সালাতিন এলাকা থেকে ৫ জন আহতকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু ছিল বলে জানানো হয়েছে। আহতদের PRCS পরিচালিত আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
গাজার চলমান সংঘাতের মধ্যে উদ্ধারকাজও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। হামলার আশঙ্কা, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোর চাপ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
গাজা সিটি ও নুসেইরাতেও আহতের খবর:
একই রিপোর্টে বলা হয়েছে, গাজা সিটির দক্ষিণে আল-সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোনের হামলায় এক কিশোরী আহত হয়েছে। পাশাপাশি মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া সন্দেহজনক বস্তু বিস্ফোরণে আরও ২ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
এই ঘটনাগুলি দেখাচ্ছে, গাজার বিভিন্ন অংশে শুধু সরাসরি বোমাবর্ষণ নয়, যুদ্ধের পরে পড়ে থাকা বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু থেকেও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও আঘাতের ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ:
উত্তর গাজা দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ জল, চিকিৎসা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবের মধ্যে শিশুদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। বেইত লাহিয়ায় আহতদের মধ্যে শিশু থাকার দাবি সামনে আসতেই মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলি বারবার জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শিশু ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু মাটির বাস্তবতায় হামলা, স্থানচ্যুতি এবং চিকিৎসা সংকট সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন আরও বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সংঘাতের মাঝে মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল:
গাজার উত্তরাঞ্চলে লাগাতার সামরিক অভিযান এবং বোমাবর্ষণের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবন প্রায় অচল। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বারবার স্থান পরিবর্তন করছে। হাসপাতাল ও ফিল্ড মেডিক্যাল ইউনিটগুলির উপরও চাপ বাড়ছে।
এই মুহূর্তে আহতদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি সেনার পক্ষ থেকেও নির্দিষ্ট এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে আরও সরকারি ও স্বাধীন সূত্রের আপডেটের অপেক্ষা করা জরুরি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন