মঙ্গলকোটের যবগ্রাম সমবায়ে দেড় কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ, গচ্ছিত টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহকরা

 সমবায়ে দেড় কোটি নয়ছয়ের অভিযোগ



মঙ্গলকোটে সমবায় সমিতিতে বড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে যবগ্রাম এসকেইউএস লিমিটেড সমবায় সমিতিতে প্রায় দেড় কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, সমবায়ের গ্রাহকরা নিজেদের গচ্ছিত টাকা তুলতে গেলে তাঁদের টাকা দেওয়া হচ্ছে না। সমবায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা নেই।

মঙ্গলকোটের জয়ী বিজেপি প্রার্থী শিশির ঘোষ মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি সমবায়ের ম্যানেজার তপজ্যোতি পালকে নিয়ে কাটোয়া সমবায় দপ্তরে যান এবং অডিট রিপোর্ট দেখতে চান। সেই রিপোর্টেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।

ভবন সংস্কারের টাকা সার কেনায় দেখানোর অভিযোগ

অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, সমবায়ের ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ১ কোটি ১৭ লক্ষ ১১ হাজার ৮৪৩ টাকা। কিন্তু ভবন সংস্কারে খরচ হয়েছে মাত্র ৩ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৭০ টাকা

অভিযোগ, বাকি ১ কোটি ১৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৭৩ টাকা সার ব্যবসায় মালপত্র কেনার খরচ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ সার কোম্পানিগুলির পাওনা সমিতির তহবিল থেকেই মেটানো হয়েছিল বলে দাবি উঠেছে।

গ্রাহকদের টাকা ফেরত নিয়ে অনিশ্চয়তা

যবগ্রাম ও বামুনগ্রামের বহু মানুষের এই সমবায়ে সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁরা নিজেদের জমানো টাকা তুলতে গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শিশির ঘোষের দাবি, তৃণমূল আমলে মঙ্গলকোটের সমবায় সমিতিগুলির অবস্থা বেহাল হয়েছে। দীর্ঘদিন ভোট না করিয়ে পছন্দের লোক বসিয়ে সমবায়গুলিতে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তদন্ত শুরু, টাকা ফেরানোর আশ্বাস

সমবায় সমিতির ডিআরসিএস, বর্ধমান রেঞ্জ-২-এর আধিকারিক শৌনক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অডিট রিপোর্টে বিষয়টি ধরা পড়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর আশ্বাস, সমিতির টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

এখন প্রশ্ন, যাঁরা নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা সমবায়ে জমা রেখেছিলেন, তাঁরা কবে সেই টাকা ফেরত পাবেন? তদন্তে কারা দায়ী হিসেবে উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে মঙ্গলকোটের সাধারণ মানুষ।

মন্তব্যসমূহ