বিএসএফ-কে জমি দান থেকে চাকরিতে বয়সের ছাড়: প্রথম ক্যাবিনেটেই ‘ছক্কা’ শুভেন্দুর

সোমবার দুপুরে নবান্ন সভাঘরে রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সেরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একগুচ্ছ জনমুখী ও প্রশাসনিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করলেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমরা সবার জন্য কাজ করব। বাংলার মানুষ ভয়মুক্ত ভোট দেখেছে, আমরা তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।”


মন্ত্রিসভার ৬টি বড় সিদ্ধান্ত:

১. বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর: সীমান্ত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে ৬০০ একর জমি বিএসএফ-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে, যা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে সাহায্য করবে।


২. জনগণনা (Census) শুরু: গত ১১ মাস ধরে ঝুলে থাকা জনগণনার কাজ আজ থেকেই শুরু করার প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ আটকে রেখেছিল যাতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন আটকে দেওয়া যায়।


৩. আয়ুষ্মান ভারত: মে মাসে প্রথম ক্যাবিনেটেই বড় চমক দিয়ে রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (PM JANO AROGYA YOJONA) প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। আজ থেকেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে এই সংক্রান্ত চুক্তি প্রক্রিয়া শুরু করার ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য।


৪. চাকরিতে বয়সের ছাড়: চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত কয়েক বছরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় যারা সুযোগ হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৫ বছরের বয়সের ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।


৫. বিপিএস (BNS) কার্যকর: সারা দেশে চালু হলেও পশ্চিমবঙ্গ যে নতুন ফৌজদারি আইন (Bharatiya Nyaya Sanhita) কার্যকর করেনি, তা আজ থেকেই রাজ্যে চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


৬. আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ: আইএএস, আইপিএস এবং ডাব্লিউবিপিএস অফিসারদের অন্য রাজ্যে গিয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা:

এদিন নবান্নে পৌঁছলে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়। এরপর তিনি মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। শুভেন্দু জানান, তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো রাজ্যের নিরাপত্তা ও শান্তি সুনিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়া।


শনিবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকদের মতো মন্ত্রীরা আজকের বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও এখনও দপ্তর বণ্টন করা হয়নি।

মন্তব্যসমূহ