মমতা-ঘনিষ্ঠ সচিবের ঠাঁই উত্তরবঙ্গে, শুভেন্দুর দফতরে ভবানীপুরের সেই রিটার্নিং অফিসার!
শপথগ্রহণের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নবান্নের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় ‘সার্জারি’ শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার বিশ্বস্ত আমলাদের সরানো হচ্ছে, তেমনই নিজের কোর টিমে শুভেন্দু জায়গা দিচ্ছেন এমন আধিকারিকদের, যাঁরা পূর্বতন সরকারের সময় ব্রাত্য বা চক্ষুশূল ছিলেন।
মমতা-ঘনিষ্ঠের ‘নির্বাসন’:
প্রশাসনিক রদবদলের প্রথম কোপটি পড়েছে পবিত্র চক্রবর্তীর ওপর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তিনি স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের সহকারী সচিব হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন। শুভেন্দু সরকার ক্ষমতায় আসতেই তাঁকে নবান্ন থেকে সরিয়ে উত্তরবঙ্গের পরিবহণ দফতরে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি কেবল বদলি নয়, বরং নবান্নের অলিন্দ থেকে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়ার এক স্পষ্ট বার্তা।
শুভেন্দুর ডেরায় ‘তৃণমূলের চক্ষুশূল’:
রদবদলের তালিকায় সবথেকে বড় চমক সুরজিৎ রায়ের অন্তর্ভুক্তি। ভোট পর্বে সুরজিৎ যখন ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার ছিলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরব হয়েছিল তৃণমূল। তাঁকে সরানোর জন্য কমিশনের কাছে দরবারও করেছিল জোড়াফুল শিবির। এবার সেই সুরজিৎ রায়কেই নিজের দফতরে (CMO) গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে এলেন শুভেন্দু।
ঢেলে সাজানো হচ্ছে সিএমও:
মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা পদে আনা হয়েছে কমিশনের ‘সুপারহিরো’ হিসেবে পরিচিত অভিজ্ঞ আমলা সুব্রত গুপ্তকে। এ ছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নবনীত মিত্তল এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতরের যুগ্মসচিব পি প্রমথকেও মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে আনা হয়েছে। শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সচিব করা হয়েছে শান্তনু বালাকে।
প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে ‘পুরানো ছায়া’ মুছতে ইতিমধ্য়েই ৬২ জন আমলাকে তলব করেছে নবান্ন। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই গত সরকারের মন্ত্রীদের আপ্তসহায়ক বা ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সব মিলিয়ে, দায়িত্ব নিয়েই নবান্নকে আমূল বদলে ফেলার পথে হাঁটছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন