নবান্নে ‘এক্সটেনশন’ জমানায় ইতি! এক কলমে সব রিটায়ার্ড আমলাকে ছাঁটাই করলেন শুভেন্দু
বাংলার প্রশাসনিক অন্দরমহল থেকে ‘অনুপ্রেরণা’র ছায়া সরাতে এবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালালেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তাঁর নির্দেশে নবান্ন থেকে একটি কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে—চাকরির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও পুনর্নিয়োগ বা চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করা সমস্ত আধিকারিকদের অবিলম্বে বিদায় নিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও নিগমের শীর্ষপদে দীর্ঘদিন জাঁকিয়ে বসা অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের দাপটে ইতি পড়ল।
শীর্ষপদে বড় রদবদল:
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি উদ্যোগ, বিভিন্ন বোর্ড কিংবা সংস্থাগুলোতে ডিরেক্টর বা চেয়ারপার্সন হিসেবে কর্মরত যে সমস্ত আমলাদের মেয়াদের পরেও রাখা হয়েছিল, তাঁদের পরিষেবা দ্রুত বাতিল করতে হবে। প্রশাসনের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, গত ১৫ বছরে এই ‘এক্সটেনশন’ জমানা কার্যত প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এবার সেই প্রথা ভেঙে দক্ষ ও কর্মরত অফিসারদের জন্য পথ প্রশস্ত করাই শুভেন্দু সরকারের মূল লক্ষ্য।
ফাইল বন্দি হবে না অফিসারদের কলম:
এদিন নবান্নের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সব দপ্তরের সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে পাশে বসিয়ে এক অভাবনীয় সাহস দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর স্পষ্ট নির্দেশ, “আর কোনও অদৃশ্য নির্দেশে নয়, আপনারা আইনের বই মেনেই ফাইলে কলম চালান। কার কী নিজস্ব মতামত, তা সরাসরি নথিতে লিখুন।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, আমলাদের কাজ কোনও রাজনৈতিক দলকে তুষ্ট করা নয়, বরং মানুষের জন্য প্রশাসন চালানো।
প্রশাসনের ভোলবদল:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম দিনের পদক্ষেপটি কেবল একটি প্রশাসনিক আদেশ নয়, বরং আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার এক বলিষ্ঠ বার্তা। পুনর্নিয়োগে দাঁড়ি টেনে এবং নতুন প্রজন্মকে সুযোগ করে দিয়ে নবান্নের কর্মসংস্কৃতিতে আমূল বদল আনতে চাইছেন রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী। এই নির্দেশের পর থেকেই নবান্নের অলিন্দে এক অদৃশ্য থমথমে পরিবেশের বদলে এখন কাজ করার নতুন উদ্যম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন