কাতার: একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরের নীল জলে আচমকাই গর্জে উঠল যুদ্ধবিমান। আমেরিকা ও ইরানের বৈরিতায় কি ইতি পড়বে? নাকি আরও একটা বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাবে মধ্যপ্রাচ্য? এই তীব্র আশঙ্কার মাঝেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সরাসরি চুক্তি লঙ্ঘনের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল তেহরান। ইরানের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, মার্কিন আগ্রাসন রুখতে তারা নিজেদের মাটি থেকে এক ইঞ্চিও সরবে না।
মাঝরাতে কেঁপে উঠল কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি
উত্তেজনার মূল উৎস ইরানের হরমোজগান প্রদেশের রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস শহর। সোমবার মাঝরাতে এই বন্দর শহরের বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে। উল্লেখ্য, এই বন্দর আব্বাসেই রয়েছে ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। পরে ওয়াশিংটনের মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক রুট বন্ধ করতে কিছু ইরানি বোট মাইন বিছানোর চেষ্টা করছিল। নিজেদের নৌসেনাদের বাঁচাতে তারা এই ‘আকস্মিক আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে।
মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি রেভোলিউশনারি গার্ডের
আমেরিকার এই যুক্তিকে অবশ্য ‘আগ্রাসন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক। বোমাবর্ষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া পাল্টা জবাব দেয় তেহরানের সেনা। রেভোলিউশনারি গার্ডের দাবি, আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোনকে মাঝআকাশেই গুলি করে নামিয়েছে তারা। তেহরানের সাফ কথা, সার্বভৌমত্বে আঘাত লাগলে আমেরিকাকে আরও ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের কূটনীতি বনাম বাইশ গজের লড়াই
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই সংঘাত যখন চলছে, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে দুই দেশের যুদ্ধবিরতি আরও দু’মাস বাড়ানোর তোড়জোড় চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন যে, তিনি সামরিক শক্তির চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিতে চান। কিন্তু সীমান্তের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। চলতি মাসের শুরুতেও মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের উস্কানিমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছিল, যার জবাবে পাল্টা আঘাত হেনেছিল আমেরিকা। শান্তি আর যুদ্ধের এই লুকোচুরি খেলা পশ্চিম এশিয়াকে এক অনন্ত অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
