| চিত্র [মজিদ আসগরিপুর/ওয়ানা (ডব্লিউএএনএ) ভায়া রয়টার্স |
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে বড় ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। International Crisis Group-এর Iran Project-এর পরিচালক Ali Vaez জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান এখন “আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে চুক্তির কাছাকাছি” পৌঁছে গিয়েছে। তবে তাঁর মতে, এই সম্ভাব্য চুক্তি খুবই সীমিত এবং আপাতত বড় কোনও স্থায়ী সমাধান দেবে না।
Ali Vaez-এর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা চুক্তির মূল লক্ষ্য হবে চলমান যুদ্ধবিরতিকে আরও স্থিতিশীল করা এবং Strait of Hormuz বা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার পথ তৈরি করা। কিন্তু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে গভীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমস্যা রয়েছে, তা এই চুক্তির মাধ্যমে পুরোপুরি সমাধান হবে না বলেই মনে করছেন তিনি।
চুক্তি হলেও মূল সমস্যা থেকে যাবে?
Vaez বলেন, এই চুক্তি মূল সমস্যাগুলিকে সমাধান না করে সেগুলিকে আপাতত পিছিয়ে দেবে। তাঁর দাবি, সমঝোতা স্মারক বা Memorandum of Understanding চূড়ান্ত হলে পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য একটি নতুন আলোচনার সময়সীমা শুরু হতে পারে।
অর্থাৎ, আপাতত যুদ্ধবিরতি ধরে রাখা, হরমুজ প্রণালী খোলা এবং উত্তেজনা কমানোই মূল লক্ষ্য হতে পারে। কিন্তু ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ভূমিকা—এই বড় ইস্যুগুলি পরে আলোচনায় আসতে পারে।
নিষেধাজ্ঞা ছাড়ে বাস্তব নিশ্চয়তা চাইছে ইরান
Ali Vaez-এর মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর, বিশেষ করে Trump প্রশাসনের ওপর, গভীর অবিশ্বাস পোষণ করে। তাই তেহরান চাইছে, যেকোনও সম্ভাব্য চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা ছাড় যেন শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।
ইরানের দাবি, নিষেধাজ্ঞা ছাড় হতে হবে বাস্তব, যাচাইযোগ্য এবং স্পষ্টভাবে কার্যকর। অর্থাৎ, চুক্তির ঘোষণা হলেও ইরান দেখতে চাইবে যে তাদের আটকে থাকা অর্থ, বাণিজ্যিক সুবিধা বা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সত্যিই পরিবর্তন আসছে কি না।
এই কারণেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার, বিদেশমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দোহায় গিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির আর্থিক ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে Vaez জানিয়েছেন।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিও তেহরানের
ইরানের আরেকটি বড় দাবি হল লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত ঘিরে লেবাননের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। তেহরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সময়ে লেবাননের সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তাহলে তা সম্ভাব্য চুক্তির পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই কারণেই তেহরান শুধু নিষেধাজ্ঞা ছাড় নয়, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর দিকেও জোর দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া ওয়াশিংটনের বড় শর্ত
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে Strait of Hormuz পুনরায় খোলা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। এই পথে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক তেল বাজার, জ্বালানির দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
Ali Vaez-এর মতে, দুই পক্ষের প্রত্যাশার মধ্যে এখনও পার্থক্য রয়েছে। ইরান যেখানে বাস্তব নিষেধাজ্ঞা ছাড় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা চাইছে, সেখানে ওয়াশিংটনের বড় অগ্রাধিকার হরমুজ প্রণালী এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা।
শেষ পর্যন্ত চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কতটা?
বিশ্লেষক Ali Vaez মনে করেন, মতপার্থক্য থাকলেও দুই পক্ষের সামনে আলোচনার বিকল্প খুব বেশি আকর্ষণীয় নয়। কারণ চুক্তি না হলে সামরিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে।
তাই তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সীমিত সমঝোতায় পৌঁছতে পারে। তবে সেই চুক্তি বড় কূটনৈতিক সমাধান নয়, বরং একটি সাময়িক ব্যবস্থা হতে পারে—যার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ধরে রাখা, হরমুজ প্রণালী খোলা এবং পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে।