নিয়ম বহির্ভূত পশুবলিতে কড়া শর্ত, নির্দেশ অমান্য করলেই জেল-জরিমানার বিধান রাজ্যে
পশুবলিতে কড়া শর্ত রাজ্যের
পশুবলি নিয়ে কড়া নিয়ম আনল রাজ্য সরকার
রাজ্যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশুবলি বা ধর্মীয় কারণে পশু হত্যার ক্ষেত্রে কড়া শর্ত আরোপ করল রাজ্য সরকার। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যত্রতত্র বা নিয়ম না মেনে পশুবলি দেওয়া যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে একাধিক প্রশাসনিক ও চিকিৎসাগত শর্ত মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিয়মবহির্ভূত পশুহত্যায় লাগাম টানতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এই নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসন কতটা কঠোর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
পশুবলির আগে লাগবে সরকারি শংসাপত্র
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, পশুবলি দিতে হলে আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসকের কাছ থেকে যৌথভাবে শংসাপত্র নিতে হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র ধর্মীয় বা সামাজিক কারণে সরাসরি পশুবলি দেওয়া যাবে না।
শংসাপত্র দেওয়ার আগে পশুটির বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং ব্যবহারযোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসন ও পশুচিকিৎসক নিশ্চিত হলে তবেই অনুমতির প্রশ্ন আসবে। এতে অনিয়ন্ত্রিত পশুবলি বা অবৈধ পশুহত্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
পশুর বয়স ও স্বাস্থ্য নিয়ে নির্দিষ্ট শর্ত
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বলির জন্য বিবেচিত পশুটির বয়স অন্তত ১৪ বছরের বেশি হতে হবে। পাশাপাশি পশুটি বার্ধক্য, আঘাত, বিকৃতি বা দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
অর্থাৎ সুস্থ, কর্মক্ষম বা কম বয়সী গবাদি পশুকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বলি দেওয়ার পথ কার্যত বন্ধ করতে চাইছে সরকার। এই সিদ্ধান্তকে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির একাংশ স্বাগত জানিয়েছে।
প্রকাশ্য স্থানে পশুবলি নয়
শংসাপত্র থাকলেও রাস্তার ধারে, প্রকাশ্য স্থানে বা যত্রতত্র পশুবলি দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র সরকারি বা প্রশাসন অনুমোদিত কসাইখানাতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রশাসনের মতে, প্রকাশ্য পশুবলি অনেক সময় জনস্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক অশান্তির কারণ হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট অনুমোদিত জায়গা ছাড়া এই ধরনের কাজ করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নির্দেশ না মানলে জেল ও জরিমানা
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, নিয়ম না মেনে পশুবলি দিলে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। পাশাপাশি ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা জেল ও জরিমানা—দুই দণ্ডই হতে পারে।
১৯৫০ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে এই ধরনের অপরাধ আদালতগ্রাহ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ অভিযোগ উঠলে প্রশাসন ও আদালত সরাসরি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে পারবে।
শংসাপত্র না পেলে আপিলের সুযোগ
যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পশুবলির শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করে, তাহলে ক্ষুব্ধ ব্যক্তি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। শংসাপত্র প্রত্যাখ্যানের বার্তা পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ থাকবে।
এর ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও সরকারি পথে পুনর্বিবেচনার সুযোগও রাখা হয়েছে।
পশুপ্রেমীদের স্বাগত, নজর বাস্তবায়নে
পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধে রাজ্যের এই পদক্ষেপকে পশুপ্রেমীদের একাংশ স্বাগত জানিয়েছে। তবে বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। স্থানীয় প্রশাসন, পুরসভা, পঞ্চায়েত, পশুচিকিৎসক এবং পুলিশ—সব পক্ষের সমন্বয় ছাড়া এই নিয়ম কার্যকর করা কঠিন হতে পারে।
রাজ্য সরকারের বার্তা স্পষ্ট—ধর্মীয় আচার বা সামাজিক প্রথার নামে নিয়ম বহির্ভূত পশুহত্যা আর মেনে নেওয়া হবে না। এবার থেকে পশুবলির ক্ষেত্রেও আইন, প্রশাসনিক অনুমতি এবং পশুস্বাস্থ্যের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন