ফের পকেটে ছ্যাঁকা! ১ জুন থেকে একলাফে অনেকটা বাড়ল LPG সিলিন্ডারের দাম

কলকাতায় বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি এবং ঘরোয়া গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত থাকার


কলকাতা: নতুন মাসের শুরুতেই রান্নার গ্যাসের দামে বড়সড় রদবদল ঘটাল তেল সংস্থাগুলি। কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৫৩.৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আজ থেকে কলকাতায় একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার কিনতে খরচ পড়বে ৩,২৫৫.৫০ টাকা। পিছিয়ে নেই রাজধানী দিল্লিও। সেখানে এই সিলিন্ডারের দাম ৪২ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩,১১৩.৫০ টাকা। এর পাশাপাশি দিল্লিতে ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডারের দামও ১১ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮২১.৫০ টাকায়। তবে সাধারণ মধ্যবিত্তের স্বস্তি বজায় রেখে ১৪.২ কেজির ঘরোয়া সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।


বড় নির্দেশের পথে কেন্দ্র

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে সরকার। সেই উদ্দেশ্যেই পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলপিজি-র পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই লক্ষ্যপূরণে দেশের সমস্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে অন্তত ৩০ দিনের রান্নার গ্যাস মজুত রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


চাহিদা বৃদ্ধির খতিয়ান

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে দৈনিক এলপিজি-র চাহিদা প্রায় ৭২ হাজার মেট্রিক টন। তার বিপরীতে দেশের রিফাইনারিগুলি সম্পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫২ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি উৎপাদন করছে, যা একটি রেকর্ড। তবে সম্প্রতি কৃষিক্ষেত্রে জ্বালানির ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রে অস্বাভাবিক বিক্রি চোখে পড়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বিক্রি ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এমনকি দেশের ১৪টি জেলা এমনও রয়েছে যেখানে পেট্রোল বিক্রি ১০০ শতাংশের গণ্ডি পার করে গেছে।


জ্বালানি পাচার ও মজুতদারি রুখতে কড়া অ্যাকশন

এই বিপুল চাহিদার সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ কালোবাজারি বা বেআইনি মজুতদারি করতে না পারে, তার জন্য দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। গত চার দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৬,৫০০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। বেআইনি মজুতদারির অভিযোগে ৫টি এফআইআর দায়ের করার পাশাপাশি ২ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, গত দু'দিনে বিভিন্ন জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে ৯০০টি ঝটিকা পরিদর্শন চালিয়ে ৪১৭ লিটার পেট্রোল এবং ৭৫,৭১৫ লিটার ডিজেল বাজেয়াপ্ত করেছে টাস্ক ফোর্স। এই বেআইনি কারবারে জড়িত থাকার অপরাধে আরও ১২টি এফআইআর দায়ের করে ১৫ জনকে শ্রীঘরে পাঠানো হয়েছে।