পাকিস্তানকে চাপে ফেলে বাড়ল ভারতের পরমাণু ভান্ডার! বড় আপডেট ‘SIPRI’-র



নয়াদিল্লি: দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সামরিক শক্তিতে বড়সড় রদবদল ঘটল। আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (SIPRI)-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক খতিয়ান বলছে, পরমাণু বোমার ভান্ডারে এবার পাকিস্তানকে টপকে গিয়েছে ভারত। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের হাতে এখন ১৯০টি পরমাণু যুদ্ধাস্ত্র (Warheads) রয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১৭০টি। অর্থাৎ, পারমাণবিক শক্তির দিক থেকে ইসলামাবাদকে পেছনে ফেলে ২০টি যুদ্ধাস্ত্রে এগিয়ে রয়েছে নয়াদিল্লি।


বিগত বছর জুড়ে দুই দেশই তাদের পরমাণু অস্ত্রের আধুনিকীকরণ সচল রেখেছিল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে ভারত মূলত চীনের দিকে নজর রেখে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে, তবে তাদের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশলে পাকিস্তানের প্রভাব এখনও স্পষ্ট। বর্তমানে এই অঞ্চলে ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সামরিক প্রতিযোগিতার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।


প্রতিরক্ষা খরচ ও অস্ত্র আমদানিতে বিপুল ফারাক

শুধু পরমাণু অস্ত্রেই নয়, সামরিক বাজেট ও অস্ত্র কেনাকাটার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের তুলনায় বহু এগিয়ে রয়েছে ভারত। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯২.১ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা ব্যয় করে বিশ্বমঞ্চে পঞ্চম স্থান ধরে রেখেছে ভারত, যা আগের বছরের চেয়ে ৮.৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, শীর্ষ ১৫টি দেশের তালিকাতেও জায়গা পায়নি পাকিস্তান। এছাড়া, বিগত চার বছরে (২০২১-২৫) বৈশ্বিক অস্ত্র আমদানির ৮.২% একাই করেছে ভারত, যা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। একই সময়ে পাকিস্তান ৫ নম্বরে থাকলেও ভারতের তুলনায় অর্ধেক অস্ত্র আমদানি করেছে।


সাইবার সংঘাত ও কাশ্মীর উত্তেজনা

সিপরির রিপোর্টে কাশ্মীরের পহেলগাম জঙ্গি হামলা এবং তার জবাবে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সামরিক সংঘাতকে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে এক নজিরবিহীন সংকট হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই লড়াইয়েই প্রথমবার সম্মুখ সমরের পাশাপাশি দুই দেশই পুরোদমে সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছিল, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এক নতুন বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।