|
|
| ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কিয়ার স্টার্মার। |
লন্ডন: ব্রিটেনের রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত। গত এক দশকে এই নিয়ে সাত বার! ব্রিটেনের গত প্রায় দু'শো বছরের ইতিহাসে নেতৃত্ব বদলের এমন নজিরবিহীন রেকর্ডের সাক্ষী থাকল ডাউনিং স্ট্রিট। দলের অন্দরের প্রবল বিদ্রোহ এবং ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কিয়ার স্টার্মার (Keir Starmer)। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন ৬৩ বছর বয়সি এই লেবার নেতা।
১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে বিদায়ী ভাষণ
সোমবার স্ত্রী-কে পাশে নিয়ে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে বিদায়ী ভাষণ দেন স্টার্মার। তাঁর গলায় শোনা যায় আক্ষেপ ও দেশপ্রেমের বার্তা। তিনি বলেন, "আমি যে দেশকে ভালোবাসি, তাকে সবার ওপরে রাখাই আমার প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য। আর ঠিক সেই কারণেই আজ আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
মাত্র দু'বছর আগে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করাকে তাঁর জীবনের 'সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত' বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জীবন পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন।
পদত্যাগের মূল কারণ
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপুল জয়ের পর যিনি দেশের হাল ধরেছিলেন, তাঁকে কেন এত দ্রুত সরতে হল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত বেশ কয়েকটি জোরালো কারণেই গদি ছাড়তে বাধ্য হলেন স্টার্মার। দলের অন্দরে বিদ্রোহ, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থান, সাংসদদের চরম আল্টিমেটাম এবং প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতা এই পদত্যাগের অন্যতম কারণ।
সাফল্যের দাবি এবং বাস্তব পরিস্থিতি
পদত্যাগ করলেও নিজের দু'বছরের মেয়াদের কাজের সাফাই গাইতে ভোলেননি স্টার্মার। তাঁর দাবি, তাঁর আমলেই দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নিজের কাজের খতিয়ান দিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের অর্থনীতি এখন সমসাময়িক দেশগুলির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি মাসে মূল্যবৃদ্ধির হারকে ছাপিয়ে দ্রুত হারে মজুরি বেড়েছে।"
এর পাশাপাশি, ছোট নৌকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ কমানো, শিশু দারিদ্র্য দূরীকরণ, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (NHS) ওয়েটিং লিস্ট হ্রাস, শ্রমিক ও ভাড়াটেদের অধিকার রক্ষা এবং প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দের বিষয়গুলিকেও নিজের সরকারের যুগান্তকারী সাফল্য বলে দাবি করেন তিনি।
সাফল্যের খতিয়ান দিলেও, আমজনতার মোহভঙ্গ হয়েছিল আগেই। বেহাল জনপরিষেবা, আর্থিক সঙ্কট এবং বেআইনি অনুপ্রবেশের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলি মেটাতে একের পর এক সরকারের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতাই ব্রিটেনের রাজনীতিতে এই চরম অস্থিরতার মূল কারণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। এখন দেখার, ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হিসেবে কার নাম চূড়ান্ত হয়।